সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন সেটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই যেকোনো দিন প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে নম্বর পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরই প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বর্তমানে এসব পদে মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর থাকলেও প্রস্তাবিত কাঠামোতে গ্রেডভেদে তা ২৫, ৪০ ও ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।
খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, ১১ ও ১২তম গ্রেডের পদে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার জন্য থাকবে ৫০ নম্বর। বর্তমানে যেখানে ভাইভায় ১০ নম্বর রয়েছে, সেখানে এটি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একইসাথে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ গ্রেডের লিখিত পরীক্ষায় বর্তমানে ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।
১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৯০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ৬০ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে ৪০ করার কথা বলা হয়েছে। একইসাথে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষায় ৪০ এবং ভাইভায় ১০ নম্বর থাকে। নতুন বিধিমালায় লিখিত ও মৌখিক- দুই পরীক্ষাতেই ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৫৯-এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাথে পরামর্শক্রমে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। এর নাম হবে ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদফতর, পরিদফতর, দফতর এবং সংস্থাসমূহের ১১তম-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’। বিধিমালাটি কার্যকর হবে প্রজ্ঞাপন জারির পর।
তবে শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, কোস্ট গার্ড, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদের ক্ষেত্রে এই বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত নতুন নম্বর কাঠামো কার্যকর হবে না। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ চলছে।
মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন বা সবুজ সংকেত পেলেই তা জারি করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে শুরু হওয়া নিয়োগ কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়বে না। খসড়ায় বলা হয়েছে, বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সময় ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের কোনো কার্যক্রম পুরোনো বিধিমালা অনুযায়ী চলমান থাকলে সেটি আগের বিধিমালা অনুসারেই শেষ করতে হবে।
অর্থাৎ নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেগুলোতে নতুন নম্বর কাঠামো প্রযোজ্য হবে না।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে।
এদিকে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা ও আন্দোলন চলছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা বৈষম্য তৈরির চিন্তা নেই; দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।



