সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত শর্তে আয়করমুক্ত রাখা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকায় এসব ভাতা ও সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাসের মতো আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী আয়কর দিতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের পাশাপাশি পদ, দায়িত্ব ও কর্মস্থল অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ভাতা পেয়ে থাকেন। এসব ভাতার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সুবিধা করমুক্ত হলেও সব কর্মচারী সব ধরনের ভাতা পান না। একই সাথে করমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি ও শর্ত পূরণ করতে হয়।
করমুক্ত ৪২ ধরনের ভাতা ও সুবিধা
এনবিআরের আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী, করমুক্ত ভাতা ও সুবিধার তালিকায় রয়েছে চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউন্স, ক্লিনার অ্যালাউন্স, ড্রাইভার অ্যালাউন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউন্স, পিবিএক্স অ্যালাউন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউন্স, নার্সিং অ্যালাউন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউন্স, নিযুক্তি ভাতা, আউটফিট ভাতা এবং গার্ড পুলিশ ভাতা।
তবে তালিকাভুক্ত কোনো ভাতা করমুক্ত হলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ছাড় পাওয়া যাবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট ভাতার ধরন, প্রাপ্যতা এবং আয়কর নির্দেশিকায় উল্লেখিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের যেসব আয়ে কর দিতে হবে
সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস সাধারণত করযোগ্য আয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। ফলে কিছু ভাতা করমুক্ত হলেও চাকরিজীবীদের মোট আয়ের সব অংশ করের আওতার বাইরে থাকে না।
আয়কর রিটার্ন তৈরির সময় করযোগ্য আয় ও করমুক্ত ভাতার হিসাব আলাদাভাবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কোন আয় করযোগ্য হবে এবং কোন সুবিধায় কর ছাড় পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের বিধান ও নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা প্রয়োজন
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো, বর্ধিত বেতন এবং বকেয়া পরিশোধের বিষয়গুলো করমুক্ত ভাতার হিসাব থেকে আলাদা। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কোন মাস থেকে বর্ধিত বেতন দেওয়া হবে এবং বকেয়া কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার ভিত্তিতে নিশ্চিত হতে হবে।
এনবিআরের নির্দেশিকা অনুসরণ করে নির্ধারিত করবর্ষের আয়, করমুক্ত সুবিধা ও প্রযোজ্য করের হিসাব রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। তাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে করমুক্ত ভাতার শর্ত এবং নিজের মোট করযোগ্য আয়ের হিসাব যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।


