জামালপুরে জেলা যুবলীগের ব্যানারে মশাল মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তবে যুবলীগের ব্যানারে মিছিল হলেও মামলার এজাহারে জেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বশীল নেতাকে আসামি করা হয়নি।
শুক্রবার গভীর রাতে জামালপুর শহরের কড়ইতলা এলাকায় মশাল মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানি বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে শহরের কড়ইতলা (তমালতলা) এলাকার একটি ‘স’ মিলের সামনে ব্যানার ও মশাল নিয়ে সমবেত হন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
মামলার বাদী জানান, তিনি ও স্থানীয় লোকজন মিছিলকারীদের বাধা দিলে তারা ধাওয়া দেন। পরে মিছিলকারীরা শেরপুর রোডের দিকে চলে যান। যাওয়ার সময় তারা রাস্তায় ব্যবহৃত মশাল, পেট্রোলের বোতল, লাঠি ও লোহার রড ফেলে যান। পরে পুলিশ এসব আলামত জব্দ করে।
মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহীনুর রহমান শাহীন, শহর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর এমদাদুল হক জীবন, সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মিল্টন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাবিরুল ইসলাম বাবু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ।
তবে স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, মশাল মিছিলটি জেলা যুবলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হলেও জেলা যুবলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা দায়িত্বশীল কোনো নেতাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।


