ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইতালির ক্লাব কোমো। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ইংলিশ জায়ান্টদের ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে তারা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের একটি গোলেও অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার নিকো পাজ। কোমোর হয়ে অন্য গোল দুটি করেছেন তাসোস দুভিকাস ও জেকোবো র্যামন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে কোমো। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নিকো পাজ। পরে তার আরও একটি গোল এবং দুভিকাসকে দিয়ে গোল করানোর সুবাদে বড় জয়ের ভিত গড়ে স্বাগতিকরা। শেষদিকে র্যামনের হেডে ব্যবধান বাড়ে। অতিরিক্ত সময়ে একটি গোল শোধ করলেও বড় হার এড়াতে পারেনি ইউনাইটেড।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই নজর কাড়ছে কোমো। এর আগে ঘরের মাঠে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। যদিও পরের ম্যাচে ফেইনুর্দের মাঠে ৩-২ গোলে হেরে যায় ইতালিয়ান দলটি। এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে উড়িয়ে দিয়ে আবারও নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল ক্লাবটি।
অন্যদিকে, এই ম্যাচের আগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তিনটি ড্র ও তিনটি হারের পর কোমোর মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা থাকলেও উল্টো বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করেছিল ইউনাইটেড। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই কোমোর মাঠে ম্যাচের ১১৮ সেকেন্ডে জালে বল পাঠায় স্বাগতিকরা। নিকো পাজের দ্রুততম গোলেই শুরু হয় ইউনাইটেডের বিপর্যয়। পরে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের জয় আরও নিশ্চিত করেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
এতে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার মূল পর্বে টানা দুই ম্যাচের প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে গোল হজম করা প্রথম ইংলিশ ক্লাব হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড গড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে হতাশার।
দুই দলের ইতিহাসের দিকে তাকালেও ম্যাচটির তাৎপর্য স্পষ্ট হয়। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছিল, তখন কোমো খেলত ইতালির চতুর্থ স্তরের লিগ সিরি ডি-তে। সময়ের ব্যবধানে দুই ক্লাবের অবস্থানের এই পরিবর্তন কোমোর সাম্প্রতিক উত্থানকেই সামনে এনেছে।
ম্যাচে নিকো পাজের জোড়া গোলের পাশাপাশি তাসোস দুভিকাসের গোলও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শেষদিকে জেকোবো র্যামনের শক্তিশালী হেডে চতুর্থ গোল পায় কোমো। একপর্যায়ে ইউনাইটেডের জন্য পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে, ১৯৬৪ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিংয়ের কাছে ৫-০ গোলে হারের পুরোনো ইউরোপীয় লজ্জার রেকর্ড ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসকে তুলে জশুয়া জিরকজিকে মাঠে নামান কোচ মাইকেল ক্যারিক। এর আগেই প্রথমার্ধ শেষে মাথিউস কুনহা ও আন্দ্রেই সান্তোসকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে একের পর এক পরিবর্তনেও দলের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় আমাদ ডিয়ালোর ক্রস থেকে অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে গোল করেন জিরকজি। এতে ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ হলেও পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি দলটি।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সামনে গিয়ে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় ক্যারিককে। নিজের খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দেওয়ার বদলে তিনি বারবার দুই হাত তুলে সমর্থকদের উদ্দেশে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, এই জয় কোমোর ইউরোপীয় অভিযানে স্মরণীয় এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।



