লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কে, এই বিতর্কে এবার নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করলেন জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার থমাস মুলার। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে রোনালদোর ভক্ত থাকলেও সময়ের সাথে মেসির ফুটবলীয় নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সর্বকালের সেরা হিসেবে আর্জেন্টাইন তারকাকেই বেছে নিয়েছেন মুলার।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে মেসি-রোনালদোর মধ্যে কাকে সেরা মনে করেন, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন মুলার। তিনি বলেন, ‘মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো? আমাকে এই প্রশ্নটা অসংখ্যবার করা হয়েছে, প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশিবার।’ এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জার্মান ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের প্রথম ১০ বছর আমি ক্রিশ্চিয়ানোর পক্ষেই ছিলাম। কিন্তু যখন পুরো দিকটা বিবেচনা করি, তখন মনে হয় লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। বিশেষ করে ২০২২ সালে তিনি যা অর্জন করেছেন, বিশ্বকাপে যা করে দেখিয়েছেন এবং এখনও যা করে যাচ্ছেন, এরপর তিনি একজন বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’
মেসিকে এগিয়ে রাখার কারণ হিসেবে শুধু তার অর্জন কিংবা পরিসংখ্যানকে দেখছেন না মুলার। আর্জেন্টাইন তারকার দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা এবং তার খেলা দেখার আনন্দকেও বড় করে দেখছেন তিনি।
মুলার বলেন, ‘তারকা হওয়ার বহু আগে থেকেই... ফুটবল খেলা দেখতে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা কেবল কোনো লোক দেখানো বিষয় বা এক বছরের জন্য স্থায়ী কোনো চমক ছিল না। এটি প্রায় দুই দশক ধরে টিকে আছে এর মধ্যে আছে পরিসংখ্যান আর খেলার নিখাদ আনন্দ। আর সে কারণেই আমি বলি, লিওনেল মেসিই সেরা।’
মুলারের এমন মন্তব্য অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারের প্রথম দশকে তার পছন্দের তালিকায় রোনালদো এগিয়ে ছিলেন। তবে সময় গড়ানোর সাথে মেসির খেলার সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা তাকে নিজের অবস্থান বদলাতে প্রভাবিত করেছে।
মেসির বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়েও মুলারের রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ। বার্সেলোনার হয়ে খেলা মেসির বিপক্ষে ১০ ম্যাচে মুলার করেছেন ৮ গোল, সাথে রয়েছে সতীর্থদের দিয়ে করানো ২টি গোল। এসব ম্যাচের মধ্যে মুলারের দল জয় পেয়েছিল ৭টিতে, বিপরীতে মেসির জয় ছিল ৩টি।
পরে প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের জার্সিতে মেসির বিপক্ষেও আরও দুইবার মাঠে নেমেছিলেন মুলার। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও মেসির বিশ্বকাপ যাত্রায় দুবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মুলার। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি ৪-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। এরপর ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ে ভূমিকা রাখেন মুলার। সেই হারেই মেসির বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।
রোনালদোর বিপক্ষে অবশ্য মুলারের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান একেবারেই ভিন্ন। ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের লড়াইয়ে আটবার মুখোমুখি হন তারা। সেই ম্যাচগুলোতে মুলার কোনো গোল করতে পারেননি। বিপরীতে রোনালদো করেছেন ৯ গোল।
ওই সময় বায়ার্ন ও রিয়ালের চারটি নকআউট লড়াইয়ের তিনটিতেই জিতেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। ২০১৪ ও ২০১৭ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৮ সালের সেমিফাইনালে বায়ার্নকে বিদায় করে রিয়াল। এর মধ্যে ২০১২ সালে একবারই রিয়ালকে টপকাতে পেরেছিল বায়ার্ন, সেটিও হয়েছিল টাইব্রেকারে।


