মালয়েশিয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পাসপোর্টসহ কনস্যুলার সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শনি ও রবিবার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি হলেও বিশেষ করে রবিবার অভিবাসী কর্মীদের ছুটির দিন। এ সুযোগে জোহর বারুতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পেরে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সেপ্টেম্বর (১২ ও ১৩) মালয়েশিয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। জোহর বাহরু ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য দুদিনব্যাপী মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং এবং রাজনৈতিক সচিব তৃতীয়সহ সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ ক্যাম্প পরিচালনা করে। জোহর বাহরুর অগ্রণী রেমিটেন্স হাউসে আয়োজিত ক্যাম্পে প্রবাসীদের পাসপোর্টসহ বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হয়।
দুই দিনের ক্যাম্পে ৩০০টি পাসপোর্ট এনরোলমেন্ট, ৩৩২টি পাসপোর্ট বিতরণ এবং ৩০টি ‘সেম পারসন লেটার’ (Same Person/Passport Data Correction Letter-এলওআই) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ট্রাভেল পারমিটসহ অন্যান্য কনস্যুলার সেবাও প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রথম সচিব মো. ইয়াসিন কবির বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরবচ্ছিন্ন পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের বিশেষ কনস্যুলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ছুটির দিনে নিজ এলাকায় কনস্যুলার সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। তাদের মতে, এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে দালালের হয়রানি থেকে যেমন রেহাই পাওয়া যায়, তেমনি কুয়ালালামপুরে যাতায়াতের সময় ও খরচও বেঁচে যায়।
তবে প্রবাসীদের অভিযোগ, দুই-তিন মাস পরপর এ ধরনের ক্যাম্প আয়োজন করায় সবার প্রয়োজন মেটে না। ফলে অনেককেই বাধ্য হয়ে কুয়ালালামপুরের পাসপোর্ট সেন্টারে যেতে হয়। এতে যাতায়াত খরচ, সময় এবং দালালের হয়রানি-সবই বহন করতে হয়।
এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে স্থায়ীভাবে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন প্রবাসীরা। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন কমিটির নেতারাও এ দাবির সাথে একমত পোষণ করে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশ হাইকমিশনার মো. মনজুরুল করিম খান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রবাসীদের এ দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। খুব শিগগিরই দাবি বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


