যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের বড় ব্যবধানে হারিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল। ওয়াশিংটনের এই নাটকীয় ক্ষমতার পালাবদল বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী যুদ্ধনীতি ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের স্পষ্ট অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি, ইরান যুদ্ধ ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতিই রিপাবলিকানদের এই পতনের মূল কারণ।
ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।
ওবামা ও ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিভক্ত করার রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশের মানুষ আজ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মন্তব্য করেছেন, মানুষ এমন নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির প্রধান বার্নড ল্যাঞ্জ এই ফলাফলকে গণতন্ত্রের বড় জয় আখ্যা দিলেও সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ট্রাম্প এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেন। ফ্রান্সের নেতা জর্ডান বারদেলা উল্লেখ করেছেন, ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের ফলে জ্বালানির যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউরোপের নাগরিকদের ওপর।
ইরান:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ফলকে যুদ্ধবিরোধী গণরায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমেরিকান জনগণ যুদ্ধকে না বলে দিয়েছে।’ তবে আন্তর্জাতিক ব্ল্যাকমেইলারদের তুষ্ট করতে ওয়াশিংটন জনগণের ইচ্ছার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তার পরিণতি দুঃস্বপ্নে রূপ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়া:
এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই ফলাফলে মস্কোর নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে ডেমোক্র্যাটদের ঐতিহাসিক অবস্থান রাশিয়ার বিপক্ষে হলেও ইউক্রেন সংকট নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ক্রেমলিন।
জাপান:
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ক্ষমতার রদবদল হলেও জাপান-মার্কিন নিরাপত্তা জোটে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তাইওয়ানও কংগ্রেসে তাদের দ্বিপক্ষীয় সমর্থন বজায় থাকার আশা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদের শেষ দুই বছর চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অভিশংসন ও ভেটোর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কাটবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন নীতির ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে ওয়াশিংটনকে।

