...|...|...

ক্যাম্পাস

মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা: কমিটি গঠনের ১১২ দিনেও সিদ্ধান্ত নেই নোবিপ্রবিতে

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৬ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৫
Shares
মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা: কমিটি গঠনের ১১২ দিনেও সিদ্ধান্ত নেই নোবিপ্রবিতে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে শিথিলতা দেওয়ার বিষয়ে গঠিত কমিটির ১১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। গত ১৩ মে চার সদস্যের ওই কমিটি গঠন করেছিল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। তবে দীর্ঘ সময়েও কমিটির সুপারিশ না আসায় মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।

নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা দেওয়ার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা দেওয়ার পর এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবনাটি এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এ–সংক্রান্ত নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে একাডেমিক কাউন্সিলে সুপারিশ দেওয়া।

গত ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরের এক অফিস আদেশে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া মাজেদী, শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান জি এম রাকিবুল ইসলাম এবং শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন। শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবনা ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে একাডেমিক কাউন্সিলে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।

তবে কমিটি গঠনের পর ১১২ দিন পেরিয়ে গেলেও নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন বা সুপারিশ জমা পড়েনি বলে জানা গেছে।

এর আগে, নোবিপ্রবিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি চ্যাপ্টার’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি প্রস্তাবনা ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়। পরে ওই প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেন,  মাতৃত্বকালীন সময়ে একজন নারী শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি নীতিমালা হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা অন্তত জানবে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে।

ডিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী রেবেকা সুলতানা বলেন, মাতৃত্বকালীন সময় মা ও নবজাতকের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ছুটির ব্যবস্থা জরুরি।

আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম জান্নাত মনে করেন, মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল করলেও উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাব এর একটি বড় কারণ। মাতৃত্বকালীন ছুটি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া মাজেদী বলেন, আমরা দুটি মিটিং করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করেছে, তা পর্যালোচনা করছি। আশা করছি, দ্রুতই আমরা সুপারিশ জমা দিতে পারব।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শিরিন আক্তারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকার কথা জানান। পরবর্তী সময়ে কমিটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবেন বললেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলব। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। ফলে মাতৃত্বকালীন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত নীতিমালা কবে বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন প্রশ্ন।