অসহনীয় মশার উৎপাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুষ্টিয়া পৌরবাসী। বাসা-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও রাস্তাঘাট- সর্বত্রই এখন মশার অবাধ বিচরণ। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মশার দাপটে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির, অন্যদিকে জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে পৌরবাসীর দিন কাটছে আতঙ্কে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহরের প্রতিটি এলাকায় মশার কামড়ে কয়েক মিনিট এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকার উপায় নেই। মশার অত্যাচারে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। মশা তাড়াতে কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও কোনো ফল মিলছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা। বাজার থেকে দাম দিয়ে নিম্নমানের কয়েল বা স্প্রে কেনার সামর্থ্য তাদের নেই, বাধ্য হয়েই তারা চেয়ে আছেন পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের দিকে।
অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া পৌরসভার মশক নিধনের পর্যাপ্ত বাজেট, যন্ত্রপাতি, ফগার মেশিন, সুপারভাইজার ও স্প্রেম্যান থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রয়োগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন, নালা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় এবং ডাস্টবিনে বর্জ্য জমে থাকায় মশার বংশবৃদ্ধি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এছাড়া, শহরের কেন্দ্রস্থলে নামমাত্র কিছু কার্যক্রম চালানো হলেও প্রান্তিক ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকাগুলোকে পুরোপুরি অবহেলা করা হচ্ছে। ফলে শহরের বাইরে থেকে উড়ে আসা মশার দাপট পুরো শহরে ছড়িয়ে পড়ছে।
মশার এই বেপরোয়া প্রজননের প্রভাবে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এরই মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরো অনেকে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় মশার প্রজনন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ রয়েছে ‘ধীরে চলো’ নীতিতে। তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উদাসীন মানসিকতার কারণে সচেতন মহল চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী পৌরবাসীর দাবি, অবিলম্বে ফগার মেশিনের সাহায্যে পুরো শহরে ওষুধ ছিটানো, ড্রেন-নালা পরিষ্কার করা এবং মশক নিধন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সচল করতে হবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুষ্টিয়ার সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ সংক্রান্তে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন।


