...|...|...

সারাদেশ

মধুমতির ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পথে ১৩ পরিবার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:৩৯ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:৪০
Shares
মধুমতির ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পথে ১৩ পরিবার

ছবি: টাইমস টুডে

মধুমতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার নদীতীরবর্তী মানুষের। গত ছয় মাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ১৩টি বসতভিটা। ঘরবাড়ি হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ অন্যের জমিতে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন এখনো থামেনি। প্রতিদিনই নদীর পাড়ের মাটি ধসে পড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী আরও বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী কয়েক মাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ভাঙনে সর্বস্ব হারানো সুফিয়া বেগম বলেন,আমার সংসার সব চলে গেছে। সাতখান-আটখান করে বাড়ি চলে গেছে। এখন আমার আর কিছুই নাই। আগে এই জায়গা-জমি ভেঙে গেছে, এখন আমরা কোথায় যাব, কোনো জায়গা নাই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় উঠব—সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল বলেন,এখানে আটটি ঘর ছিল, আটটি ঘরই নদীতে চলে গেছে। আর এখানে বাকি যে ঘরগুলো আছে, সেগুলো হয়তো ছয় মাস থাকবে কি না, সেটাই সন্দেহ রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি, এখানে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং এই ভাঙন বন্ধ করা হোক।

মুক্তিযোদ্ধা হাসমত আলী শেখ বলেন,আমার বাড়িসহ অনেক বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক বাড়িঘর ভেঙে যাবে। আমরা চাই, সরকার জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিক।

নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো মনিরা বেগম বলেন, চোখের সামনে নিজের ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। অনেক কষ্ট করে সংসার গড়েছিলাম। এখন থাকার মতো জায়গাটুকুও নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের মতো আরও অনেক পরিবার পথে বসবে।

ভুক্তভোগী কামাল বলেন,প্রথমে ভেবেছিলাম ভাঙন হয়তো আমাদের বাড়ি পর্যন্ত আসবে না। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই নদী কাছে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত ঘর সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। এখন সব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা চাই দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন,প্রতিদিন নদীর পাড় ভাঙছে। শুধু ১৩টি পরিবার নয়, আরও অনেক বাড়িঘর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আগামীতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার অনেক মানুষকে বসতভিটা হারাতে হবে।

৭ নম্বর আটজুড়ি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. লিটন মোল্লা বলেন, তার এলাকায় ২১টি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীতে চলে গেছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে অনেকবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আশার আলো দেখতে পাইনি। জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও আরও অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাদের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আইরিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মধুমতির ভাঙনে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর এখন একটাই দাবি-দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতো আর কোনো পরিবার যেন ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে না বসে, সেই ব্যবস্থা চান নদীতীরের মানুষ।