৪৮তম বিশেষ বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছেন মৌলভীবাজারের তরুণ চিকিৎসক প্রসেনজিৎ নাগ। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
প্রসেনজিৎ নাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
স্ট্যাটাসে নিজের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ওই চিকিৎসক লেখেন, ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার পর থেকে নিজেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ অপরাধীদের একজন বলে মনে হচ্ছে তার। অথচ তার দাবি, তার নামে কোনো মামলা নেই। কখনো ফৌজদারি অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন না তিনি। তারপরও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
কী কারণে বাদ পড়েছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, তার নিজের কিংবা পূর্বপুরুষদের রাজনৈতিক পরিচয় এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি জানান, সবসময় ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থেকেছেন। তার ভাষ্য, সরকারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাজনৈতিক কারণে কারও চাকরি আটকে রাখা হবে না।
ভেরিফিকেশন থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে না পারার বিষয়টিও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন এই চিকিৎসক। তার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন গোপনীয় হওয়ায় সেটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার সুযোগও নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের পেশাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করে প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে রোগীদের সেবা দেওয়াই তার মূল দায়িত্ব। শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শুধু তিনি নন, তার কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
৪৮তম বিশেষ বিসিএসের প্রস্তুতির জন্য জীবনের মূল্যবান একটি বছর ব্যয় করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সাধনা ও প্রস্তুতির পরও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাকে। কোনো তথ্য বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একজন তরুণ চিকিৎসকের এক বছরের সময় এভাবে আটকে রাখা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে কী করা উচিত, তা নিয়েও নিজের দ্বিধার কথা জানিয়েছেন এই চিকিৎসক। তার মতে, প্রতিকার পেতে রাস্তায় আন্দোলন, অনশন কিংবা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ নিতে তার নাগরিক দায়িত্ববোধ বাধা দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিকার পেতে নাগরিকদের রাস্তায় নামতে হলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলেও মনে করেন তিনি।
সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে প্রসেনজিৎ নাগ বলেন, সরকার তাদের প্রতি আন্তরিক বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি একটি বিসিএসে মাত্র তিন দিনের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের পুনরায় গেজেটভুক্ত করার বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সরকার চাইলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। তাদের দাবি হয়তো এখনো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে পৌঁছায়নি বলেও মনে করেন তিনি।
বিসিএসে নিয়োগ না পেলেই তার জীবন থেমে যাবে না উল্লেখ করে ওই চিকিৎসক বলেন, তার মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। জীবনের দুই দশকের সাধনা তাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি মনে করেন, তার যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েও রাষ্ট্র তা হারাচ্ছে।
বৈষম্যের শিকার না হয়ে চাকরি পাওয়াকে নিজের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রসেনজিৎ নাগ জানান, ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করেন এই চিকিৎসক। তিনি জানান, কোনো করুণা নয়, বরং নাগরিক হিসেবে নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। একই সাথে তার মতো যেসব প্রার্থী ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন, তাদের বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও প্রত্যাশা করেন এই তরুণ চিকিৎসক।


