...|...|...

সারাদেশ

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-বিজিবির সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪৮
Shares
জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ-বিজিবির সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধস্তাধস্তি

উচ্ছেদের আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: টাইমস টুডে

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ অ্যাকাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার খবরে উচ্ছেদের আশঙ্কায় বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের পরিদর্শনকালে এ বিক্ষোভ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাগবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জও করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে এ দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে লিফলেট হাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধস্তাধস্তি হয়। কয়েকজন নারীকে প্রতিবাদ জানাতেও দেখা যায়। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর স্কুলে বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় করতে যান এসপি মো. মাসুদ আলম। তার আগমনের খবর পেয়ে নারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাদের বসতভিটা বা কেনা জমি থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তারা বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাদের জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। নিজেদের টাকায় কেনা জমির মালিকানা ও সেখানে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। এখন পুলিশ অ্যাকাডেমি ও কারাগার নির্মাণের কথা শুনে আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, তবে আমাদের যেন পথে বসতে না হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করি। সরকারি স্থাপনা নির্মাণ হলে আমাদের বাড়িঘর থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের দাবি, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হোক এবং কাউকে জোর করে উচ্ছেদ করা না হোক।

পুলিশের ভাষ্য, সরকারি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি রয়েছে। এ কারণে তাদের একাংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাদের উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে।

এসপি বলেন, সরকারি প্রয়োজনে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী অধিগ্রহণ করতে হবে। আর খাসজমির ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের আশ্বস্ত করা হয়েছে, তাদের জোর করে উচ্ছেদ করা হবে না।

প্রসঙ্গত, গেল ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সেখানে রাজশাহীর সারদার আদলে একটি পুলিশ অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।