...|...|...

সারাদেশ

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জীবন বিপন্নের অভিযোগ, হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০৪
Shares
ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির জীবন বিপন্নের অভিযোগ, হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ছবি: টাইমস টুডে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভুল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন ও অতিরিক্ত স্যালাইন প্রয়োগ করে এক প্রসূতি ও তার অনাগত সন্তানের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ‘মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতাল’-এর কর্তৃপক্ষসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রসূতির স্বামী। একই অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর।

বুধবার (৪ নভেম্বর) মিরসরাই থানায় এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জেসমিন আক্তার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবদুর রহমান, গাইনি সহকারী ফাতেমা এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রসূতি খাদিজা আক্তার। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও তাকে একের পর এক ইনজেকশন, অতিরিক্ত স্যালাইন ও প্রসববেদনা বাড়ানোর ওষুধ দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় খাবার বন্ধ রেখে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করায় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। এ বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে রোগীর জীবন রক্ষার্থে তাকে অন্য একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, তার সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর। ওই সময় পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও চিকিৎসকরা জানান।

এ বিষয়ে ডা. জেসমিন আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রোগীর ক্লিনিক্যাল ফাইন্ডিংস ও হিস্ট্রি বিশ্লেষণ করে অনেক সময় প্রসবের নির্ধারিত সময় পার হলেও সঠিক পর্যবেক্ষণে নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। প্রেসক্রিপশনে থাকা ‘ডাইজেস্টিন’ বা এ জাতীয় ওষুধ জরায়ু স্বাভাবিক ও নরম করতে সাহায্য করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় রোগীর স্বজনেরা আতঙ্কিত হয়ে মাঝপথে চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রাখেন। চিকিৎসকের পরামর্শমতো চললে অপ্রয়োজনীয় সিজার এড়ানো সম্ভব বলেও জানান তিনি।

এদিকে, মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ আবদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজের বাইরে আছি। অফিসে ফিরে দেখব কোনো অনুলিপি দেওয়া হয়েছে কি না। যদি অভিযোগের অনুলিপি পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলামকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তার কার্যালয়ের সহকারী আরিফ হোসেন জানান, স্যার ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। অভিযোগের অনুলিপিটি আমি রিসিভ করেছি; স্যার ফিরলে বিষয়টি তাঁকে অবগত করা হবে।