এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও পানিতে তলিয়ে গেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল। শুক্রবার (২৭ আগস্ট) রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তৃতীয় দফা বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বাঁচা মেরুং স্টিল ব্রিজ এলাকায় সড়ক ও ব্রিজের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কের অংশ নৌকায় পার হতে হচ্ছে।
গত কয়েক দফার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বন্যার পানি দ্রুত বাড়লে অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হতে পারে।
কবাখালী ইউনিয়নের মাইনী ব্রিজসংলগ্ন কবরস্থান এলাকাতেও সড়কের ওপর পানি উঠেছে। তবে সেখানে পানির উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকায় দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বারবার বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষি ও মৎস্য খাতে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের জমি। বিভিন্ন মাছের খামারে পানি ঢুকে পড়ায় মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। এতে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষক ও খামারিদের নতুন করে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এক মাসে তিন দফা বন্যা শুধু যোগাযোগব্যবস্থাই নয়, তাদের জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগ সচল করা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মাছচাষিদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।



