...|...|...

বিশ্ব

রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিল পাস

ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৪
Shares
ভারত-চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে নতুন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। এর ফলে রুশ জ্বালানি ও তেল আমদানির ওপর নজর রেখে ভারত এবং চীনের মতো বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দীর্ঘ টালবাহানার পর রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় কোনো মার্কিন আইনি পদক্ষেপের পথ সুগম হলো।

এর আগে, গত মাসে সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি সহজে পাস হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই জানিয়েছেন যে তিনি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন।

বিলের মূল লক্ষ্য ও শুল্ক ক্ষমতা নতুন এই আইনটির মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকে টার্গেট করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থ জোগান বন্ধ করতে মস্কোর তেল ও গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর—যার মধ্যে সম্ভাব্যভাবে চীন ও ভারতও রয়েছে—শতকরা ১০০ ভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পকে।

তবে এই সুদূরপ্রসারী শুল্ক ক্ষমতার কারণে ডেমোক্রেট দলের মধ্যে এক অদ্ভুত বিভাজন দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনকে জোরালো সমর্থন করলেও ডেমোক্রেটরা ট্রাম্পের হাতে বাণিজ্যের অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ঘোর বিরোধী। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট নেতা গ্রেগরি মিক্স বিলটিকে ‘মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা এমনভাবে টেক্সট তৈরি করেছেন যাতে মার্কিন জনগণের ওপর নতুন আমদানি কর আরোপে ট্রাম্পের ক্ষমতা সর্বাধিক হয়, অথচ রাশিয়া বা তার সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের বাধ্যবাধকতা থাকে ন্যূনতম। তবে ডেমোক্রেটদের পক্ষ থেকে শুল্ক সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দেওয়ার সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া হলেও রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এনডিটিভির তথ্যমতে, পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টি মুক্তবাজার অর্থনীতি বা যুদ্ধবিরোধী অবস্থানে থাকা গুটিকয়েক রিপাবলিকান সদস্য এর বিরোধিতা করলেও ডেমোক্রেটদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত বিলটির পক্ষে অবস্থান নেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের পঞ্চম বছর চলছে এবং কোনো শান্তি চুক্তির লক্ষণ না থাকায় কিয়েভ সমর্থকদের মতে, মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো জরুরি।

এদিকে, বুধবার দক্ষিণাঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রো-ইউক্রেনীয় কর্মীরা হাউসের এই ভোটাভুটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মস্কোকে আলোচনায় বাধ্য করতে কঠোর চাপের ওপর জোর দিয়েছিলেন। গত জুলাই মাসে ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের সময় জেলেনস্কি বলেন, পুতিন প্রতি মাসে ৩০ হাজার সেনা হারাচ্ছেন এবং এত ক্ষতি সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধ থামাতে চান না।

এই বিলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তাকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও বিদেশি শক্তির পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত কংগ্রেসের নীতি নির্ধারণের চেয়ে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের ওপর নিজের একক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই ট্রাম্প বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যার কারণে এই বিলটি পাস হতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল। বিলটির মূল প্রণেতা ছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি গত জুলাই মাসে হঠাৎ মারা যান।