...|...|...

রাজনীতি

ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার: হাসনাত আবদুল্লাহ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২২ | আপডেট: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৪০
Shares
ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সরকারি চাকরিতে স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াচ্ছে সরকার: হাসনাত আবদুল্লাহ

১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে বিএনপি সরকার সরকারি চাকরির নিয়োগে আবারও লবিং, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।

পোস্টের শুরুতে ‘শুধু লিখিতটা পাস কর, মৌখিক পরীক্ষা আমরা দেখব’ উল্লেখ করে হাসনাত লেখেন, সরকারি কর্মচারী নিয়োগে ১১-২০ গ্রেডের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে বিএনপি সরকার সরকারি চাকরির নিয়োগে আবারও লবিং, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, যে জায়গায় দীর্ঘদিনের দাবি ছিল লিখিত পরীক্ষায় মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন বাড়িয়ে মৌখিক পরীক্ষার প্রভাব কমানো, সেখানে তারা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছে। ফলে মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

প্রশ্ন রেখে হাসনাত লেখেন, লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী ভালো করেও যদি মৌখিক পরীক্ষায় লবিং, মামা-খালু বা টাকার জোরে পিছিয়ে যায়, তাহলে মেধাভিত্তিক নিয়োগের আর অর্থ কী?

সরকারি চাকরি কোনো দলের লোক নিয়োগের জায়গা নয় মন্তব্য করে হাসনাত লেখেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর বদলে যদি পুরোনো সেই পথ আবার খুলে দেওয়া হয়, তাহলে এর চেয়ে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আর কী হতে পারে! প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ১১-১২ গ্রেডে লিখিত ১০০-এর বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষা ৫০, ১৩-১৬ গ্রেডে ৪০ এবং ১৭-২০ গ্রেডে ২৫ নম্বর। অর্থাৎ, লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী কতটা ভালো করেছেন, তার ফলাফলকে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডের বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন দিয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এখানেই আপত্তি।

কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য লেখেন, লিখিত পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠ। সবাই একই প্রশ্নে, একই সময়ে পরীক্ষা দেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা অনেক বেশি বিষয়নির্ভর। ফলে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর যত বাড়বে, মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা তত বাড়বে। আর এই স্বেচ্ছাচারে জায়গায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা দুর্বল হলে পক্ষপাত, পরিচিতি এবং রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগও বাড়বে।

তিনি আরও লেখেন, ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা মূলত তৃণমূল পর্যায়ের আমলা সরাসরি জনগণের সেবাদাতা। সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে গেলে তাদের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি সেবা নিতে হয়। তাই এই পর্যায়ের নিয়োগে পক্ষপাতমূলক বিবেচনা ঢোকার সুযোগ তৈরি করা কোনোভাবেই ছোট বিষয় নয়। কারণ মনে রাখা দরকার, এই পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা যদি দলীয় বিবেচনায় কাজ করে, তাতে জনগণ যে শুধু সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে তাই নয়, বরং ব্যাপক জনঅসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তৃণমূল পর্যায়ের আমলারা যদি ন্যায্য এবং জনগণের সেবক না হন, তাহলে সরকার যে সেবাই চালু করুক, হোক তা পারিবারিক কার্ড বা কৃষক কার্ড, তা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের লোকজনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

সরকারি চাকরি কোনো দলের লোক নিয়োগের জায়গা নয় মন্তব্য করে হাসনাত লেখেন, একজন মানুষকে রাষ্ট্রের হয়ে জনগণকে সেবা করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগের সময় যদি রাজনৈতিক আনুগত্য, ব্যক্তিগত পরিচয় বা পক্ষপাতের প্রভাব রাখার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে সেই কর্মকর্তা ভবিষ্যতে কতটা নিরপেক্ষভাবে জনগণকে সেবা দেবেন সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

হাসনাত লেখেন, আমরা মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের কথা বলছি না। বরং মৌখিক পরীক্ষাকে আরও গঠনমূলক, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ করতে হবে। কিন্তু, লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধাক্রমকে বড় ধরনের বিষয়নির্ভর নম্বর দিয়ে উল্টে দেওয়ার সুযোগ রাখা উচিত নয়।

কুমিল্লার এই সংসদ সদস্য লেখেন, আমাদের অবস্থান পরিষ্কার মৌখিক পরীক্ষা থাকুক, কিন্তু নির্দিষ্ট বিধি মেনে। বিষয়নির্ভর মূল্যায়ন থাকুক, কিন্তু নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে। মৌখিক পরীক্ষা বোর্ড থাকুক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা নয়। আর সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মেধা ও যোগ্যতাই হোক একমাত্র ভিত্তি।

হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, সরকার যদি সত্যিই নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন চায়, তাহলে নিয়োগে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ শক্তিশালী করা উচিত। আমাদের আপত্তি মৌখিক পরীক্ষায় নয়; আপত্তি এমন একটি ব্যবস্থায়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষার বিষয়নির্ভর নম্বর দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ মেধাকে পরাজিত করার সুযোগ তৈরি হয়।

শেষে তিনি লেখেন, আমরা দিনশেষে সেই বাংলাদেশে ফিরতে চাই না যেখানে সরকারদলীয় নেতা ঘোষণা করার ক্ষমতা পায় যে, ‘তোরা লিখিতটা পাস কর, মৌখিক পরীক্ষা আমরা দেখব।’