...|...|...

সারাদেশ

বড় ছেলেকে কবরে রেখে আইসিইউর সামনে ছোট ছেলের অপেক্ষায় বাবা

মো. আরাফাত চৌধুরী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৩
Shares
বড় ছেলেকে কবরে রেখে আইসিইউর সামনে ছোট ছেলের অপেক্ষায় বাবা

বড় ছেলেকে কবরে রেখে আইসিইউর সামনে ছোট ছেলের অপেক্ষায় বাবা। ছবি: সংগৃহীত

এক রাত আগেও বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে বলেছিল, ‘আমি ভালো আছি’। কে জানত, সেটিই হবে ১০ বছরের নুর মোহাম্মদ আরাফাতের সাথে বাবা মোহাম্মদ কবিরের শেষ কথা! হাম, ডেঙ্গু ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানে শিশুটি। 

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ছেলেকে কবর দিয়ে ফিরেছেন বাবা। কিন্তু শোক করারও সময় নেই তর। কারণ, একই রোগে আক্রান্ত ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে মোহাম্মদ আবু বক্কর আরব চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।

একদিকে বড় ছেলের মৃত্যু, অন্যদিকে ছোট ছেলের জীবন-মৃত্যুর লড়াই- দুই দিকের এই নির্মম বাস্তবতায় দিশেহারা ৩১ বছর বয়সী কবির। চিকিৎসকেরা ছোট ছেলের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানালেও শেষ আশাটুকু নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউর সামনে পড়ে আছেন তিনি।

কবির জানান, ১৫-২০ দিন আগে বড় ছেলে আরাফাতের জ্বর, বমি ও কাশি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। 

চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে পরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফুসফুস ও লিভারে জটিলতা দেখা দেয়। 

বৃহস্পতিবার রাতে বাবার সাথে শেষ কথা হয় আরাফাতের। পরদিন শুক্রবার সকালে ওষুধ আনতে বাইরে গেলে চিকিৎসকের ফোনে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন কবির। কিন্তু ততক্ষণে নিভে গেছে ছেলের জীবনপ্রদীপ।

এদিকে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর চার দিন আগেই ছোট ছেলে আবু বক্করকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার অবস্থারও উন্নতি হয়নি। বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে সে।

বড় ছেলের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মা আমেনা বেগম। স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছেন না তিনি। বারবার বাড়িতে ছেলেকে খুঁজছেন, কখনো জ্ঞান হারাচ্ছেন। অন্যদিকে দুই সন্তানের চিকিৎসায় ঋণের বোঝায় জর্জরিত পরিবারটি।

আইসিইউর সামনে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কবিরের আকুতি, ‘আমি শেষ হয়ে গেলাম। আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেছে।