...|...|...

চট্টগ্রাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ টাকার টিকিটে চিকিৎসা, পরীক্ষায় ব্যয় হাজার টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০১ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:২৩
Shares
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ টাকার টিকিটে চিকিৎসা, পরীক্ষায় ব্যয় হাজার টাকা

ছবি: টাইমস টুডে

সরকারি হাসপাতালে মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে এসে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর অনেক রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাসপাতালের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের একটি অংশকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে রোগীদের অনেকের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অনেক রোগীকে ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোগীদের আরও অভিযোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসার আগেই অনেক সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। পরদিন আবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হলে নতুন করে দীর্ঘ সিরিয়ালে দাঁড়াতে হয়। এতে বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে এক্স-রে, রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতেও নানা ধরনের জটিলতা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন রোগীরা। কারও কারও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না; আবার কোনো কোনো পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার মজলিশপুর এলাকা থেকে মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন জাহানারা বেগম। তার অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে এক্স-রে, ডায়াবেটিস, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে বলা হয়। এক্স-রে করাতে কাউন্টারে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। পরে রক্ত পরীক্ষা করানোর পর জানানো হয়, রিপোর্ট সন্ধ্যায় পাওয়া যাবে। তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসে এভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন তিনি।

এদিকে কিছু রোগীর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সময় কোনো কোনো চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগীকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর জন্য পাঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকজন রোগীর দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় কোনো কোনো চিকিৎসক তাদের বিকেলে ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখানোর পরামর্শ দেন। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা।

রোগীদের অভিযোগ, মাত্র ১০টাকার টিকিটে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে হলে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসাসেবা বাস্তবে কতটা সহজলভ্য থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.রতন কুমার ঢালী টাইমস টুডে কে জানান,সামনের মেটিংয়ে সকল ডাক্তারদের কে বলে দিবো প্রয়োজনের বাইরে যেনো কোনো প্রকার টেস্ট না দেওয়া হয়। ডাক্তাররা কোনো রোগীকে বলতে পারবে না আমি বিকেলে প্রাইভেট হাসপাতালে বসি সেখানে দেখা করেন, এমন প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।