...|...|...

সারাদেশ

বৈষম্যবিরোধী মামলায় আ.লীগের সাবেক মেয়র গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা (জীবননগর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:২১
Shares
বৈষম্যবিরোধী মামলায় আ.লীগের সাবেক মেয়র গ্রেফতার

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হামলা, চাঁদা দাবি, মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেয়া ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আদালতে হাজিরার পর তাকে ওই মামলায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সোলায়মান শেখ। 

জানা গেছে, গত রবিবার সকাল ১১টার দিকে টোটনকে চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা কামালের আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতে হাজিরের পর তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ সময় তার আইনজীবীরা ওই মামলায় জামিন আবেদন করলে বিচারক না-মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ছোট ভাই। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের আরামপাড়ার বাসিন্দা প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের ছেলে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় জেলার রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান টোটন। পরে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্তের অভিযোগসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

জীবননগর থানার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। এ সময় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের নির্দেশে অন্য আসামিরা লাঠিসোঁটা, কাঠের বাটাম, ধারালো রামদা ও দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অভিযোগ দেন। এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরকে এক নম্বর আসামি করে মোট ১২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করার কথা বলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যক্তির নাম রয়েছে।

এজাহারে বাদী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে কয়েকজন আসামি তার পথরোধ করেন। তাকে খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা তুষার (২৮) নামের এক ব্যক্তিকে কাঠের বাটাম, লোহার রড ও হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। 

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে তুষার মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মুখের বাঁ পাশের হাড় ভেঙে যায়। তুষারকে রক্ষা করতে বাদী এগিয়ে গেলে কয়েকজন আসামি তার ব্যাগে থাকা ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর দাবি, ওই টাকা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল কেনার জন্য ব্যাংকে জমা দিতে সাথে রেখেছিলেন। এছাড়া আনোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত অ্যাপাচি ৪ভি ১৬৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বাদী ও তার সাথে থাকা লোকজনকে খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। 

পরে স্থানীয় লোকজন আহত তুষারকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শাহিন আহমেদ, হাসান আহমেদ, ইউনুছ আলী ও মুরাদসহ কয়েকজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।