বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তেলের দাম কমে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। এতে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে সুদের হারের সিদ্ধান্তের দিকে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭১ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০.২৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯১ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। তাঁর মতে, ডলারের দাম শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণের দর ধরে রেখেছে। কারণ, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও ডলার—উভয়ের প্রতিই বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বাড়ছে।
সোমবার তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও উৎপাদক মূল্যসূচকে (পিপিআই) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ ছিল। এতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তবে তেলের দাম কমে আসায় সেই উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিবিষয়ক বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচকের (পিসিই) তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে পিসিই সূচককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ এবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। সে ক্ষেত্রে বৈঠকটি স্বর্ণের দামে বড় কোনো প্রভাব নাও ফেলতে পারে। বরং মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রমবাজারের নতুন তথ্য সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা চলতি মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা প্রায় ৮৯ শতাংশ।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) শুক্রবার জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর আরও একবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দাম বেড়েছে। সোমবার স্পট সিলভারের দাম ০.৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১.২৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫১ দশমিক ০৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১২৫ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছেছে।



