...|...|...

জাতীয়

বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়াতে হলো তেলের দাম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৫২ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৭
Shares
বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে কেন বাড়াতে হলো তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও, একই সময়ে বাংলাদেশে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের আশায় বিশ্ববাজারে বর্তমানে তেলের দাম নিম্নমুখী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বরের চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ব্যারেল ১০১.৭৫ ডলারে এবং ডব্লিউটিআইয়ের অক্টোবরের চুক্তি প্রতি ব্যারেল ৯৮.৩৪ ডলারে নেমে আসে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই স্বস্তির চিত্র দেশের বাজারে উল্টো পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ নতুন দাম নির্ধারণ করে। সোমবার থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বাজারে দাম কমার পরিবর্তে কেন বাড়াতে হয়েছে, তার পেছনের বিভিন্ন কারণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে, যার মাসিক গড় লোকসান ছিল ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ৯০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল, যা এক খাতে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি তৈরি করত। সার্বিকভাবে সব জ্বালানি খাত মিলে সরকারকে বছরজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

এর আগে, চলতি বছরে জ্বালানি তেলের দামে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। পরবর্তীতে ১ জুন অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়, যদিও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ফলে সর্বশেষ বৃদ্ধির আগে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা। এছাড়া এ বছর বিইআরসি কর্তৃক জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দামও বাড়ানো হয়েছে।

জাতীয় সংসদে দেওয়া আগের এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও জানিয়েছিলেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

বিপিসির সূত্র অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল। বাকি চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মাধ্যমে। দেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের দায়িত্বেও ভিন্নতা রয়েছে; জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম বিইআরসি নির্ধারণ করলেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।

সরকারের আরেকটি অন্যতম বড় যুক্তি হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে জ্বালানি তেলের দামে বড় ফারাক থাকলে সীমান্তপথে তেল পাচারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। দাম বাড়িয়ে সেই ব্যবধান কমিয়ে আনা গেলে পাচারের প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। পাম্পে বাড়তি টাকা খরচ ছাড়াও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে সরাসরি পরিবহন, কৃষি, পণ্য সরবরাহ এবং শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয়ে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, যার চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারদরের ওপর। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে ব্যবসায়ী ও শিল্প খাত থেকে জ্বালানির বর্ধিত ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।