...|...|...

সারাদেশ

বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা ১০ মাসের শিশু নিখোঁজ, দুইদিন পর মিলল লাশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১১ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩৪
Shares
বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা ১০ মাসের শিশু নিখোঁজ, দুইদিন পর মিলল লাশ

বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা ১০ মাসের শিশুর লাশ উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নিখোঁজের দুইদিন পর রাইয়ান নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে পরিবারের বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজতে খালে নৌকা নিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় পানিতে ভাসমান একটি কালো ব্যাগ দেখতে পান তারা। ব্যাগটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং আশপাশে মাছি উড়ছিল। পরে ব্যাগ খুলে শিশুটির পা ও রক্ত দেখতে পেয়ে ভেতরে লাশ থাকার বিষয়টি বুঝতে পারেন তারা। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বাড়িতে বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রাইয়ান নিখোঁজ হয়। শিশুটির বাবা রাসেল খান ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তার মা রুমা বেগম ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে রাসেল ঘুম থেকে উঠে ঘরে তার স্ত্রীর বোনের স্বামী আল-আমিনকে দেখতে পান। এরপর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শিশুটির মা রুমা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে কলাপাড়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে তার বোনের স্বামী আল-আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ঘুটাবাছা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

পরিবারের অভিযোগ, রুমার বোন ফিরোজা ও তার স্বামী আল-আমিনের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। এ ছাড়া রাসেল ও রুমার সাথেও আল-আমিনের বিরোধের কথা জানান তারা। শিশুটিকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তালেব জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।