...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজারের সেই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৪
Shares
কক্সবাজারের সেই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে

কক্সবাজারের সেই রিসোর্টে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। 

মহাপরিচালক জানান, গত জুনে পরিদর্শনের সময় টুপটুপ রিসোর্টকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছিল। এ বিষয়ে নোটিশও দেওয়া হয়। এরপরও রিসোর্টটির কার্যক্রম চালু ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সনদ বা লাইসেন্স ছিল না। নিয়ম মেনে রিসোর্টটি পরিচালনা করা হচ্ছিল না বলেও জানান তিনি।

তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টের নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা এবং বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরু রাস্তা ও ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকায় অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসাথে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হলেও নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলতে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথাও জানান মহাপরিচালক। ঘনবসতিপূর্ণ ও সরু রাস্তার এলাকায় দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে আগুন নেভানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।