ভারতে বাড়তে থাকা জনঅসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি। তার আশঙ্কা, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে দেশটির পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, তরুণদের অসন্তোষ এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন আনসারি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দাবি করে কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, ‘দেশ (ভারত) ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।’
দিল্লি সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনসারি দাবি করেন, দেশজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ তরুণ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তারা কেবল একটি নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নির্দেশ ছাড়া তারা কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। এত দিন রাহুল গান্ধীই তাদের সংযত রেখেছেন।
এত বিপুলসংখ্যক তরুণ রাজপথে নামলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে আনসারি বলেন, ‘৪০ লাখ তরুণ... আপনারা কত সৈন্য মোতায়েন করবেন? সেনাবাহিনী কি আমাদের শিক্ষার্থীদের পথ আটকাতে পারবে?’
ভারতের কৃষক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সমস্যায় থাকলেও সরকার সেগুলো সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নিচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করে আনসারি বলেন, ‘আমি ফের বলতে চাই যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি সচেতন না হন, তবে দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। মনে রাখবেন, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের থেকেও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এমনকি নেপালের থেকে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। আমার কথাটা লিখে রাখুন।’
সাক্ষাৎকারে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ঝাড়খণ্ডের এই মন্ত্রী। তার অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আনসারি বলেন, দেশের চাহিদাটা কি? জ্ঞানেশ কুমার, আমাদের বলুন—আপনারা ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ১৩ কোটি যে কত বড় সংখ্যা, তা কি আপনারা জানেন?
তবে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ভারতের বিরোধী দলগুলোর সাথে নির্বাচন কমিশনের বিরোধ চলার মধ্যেই আনসারির এমন বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তার মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির নেতারা এ বক্তব্যকে ‘নৈরাজ্যের ভাষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আনসারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


