...|...|...

অর্থনীতি

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির আভাস বিশ্বব্যাংকের

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:১৩
Shares
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির আভাস বিশ্বব্যাংকের

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে পরবর্তী অর্থবছরে, অর্থাৎ ২০২৮ অর্থবছরে এটি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ’ প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় ১ দশমিক ২ পয়েন্ট কমানো হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের হিসাবও শূন্য দশমিক ৫ পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতিও থেমে গেছে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে চাকরি হারানোর ঘটনা বেশি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখন কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নেই। ফলে সরকারি সহায়তার বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

সংস্থাটি বলছে, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্র করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তার সুবিধাভোগী বাছাই আরও কার্যকর করা এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব। এতে সরকারি সম্পদের অপচয়ও কমবে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে প্রমাণের ভিত্তিতে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ শনাক্ত করে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা যাবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকিও দরিদ্রদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু কারা সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজনে আছেন, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলে সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার কঠিন। তাই আরও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বিনিয়োগ কমে যাওয়া, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং ব্যবসার খরচ বেড়েছে।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

রাজস্ব আহরণও অত্যন্ত দুর্বল। ২০২৬ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। এ কারণে সরকারের ব্যয়ের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ২০২৫ অর্থবছরের জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

তবে বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্বস্তি আছে। শক্তিশালী প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বাড়ায় এ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং সংস্কার কর্মসূচির গতি বাড়লে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং আরও বেশি ও মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এসব সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

সংস্থাটির মতে, দরিদ্রদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।