...|...|...

সারাদেশ

বরগুনার ১০ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগ

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৩৯
Shares
বরগুনার ১০ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগ

বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ১০ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার ব্রিজ ঘাট থেকে ট্যাংড়াগিরি ইকো পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কের বেহাল দশার কারণে একদিকে যেমন থমকে গেছে স্থানীয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম, অন্যদিকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ভাঙা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীসহ হাজার হাজার মানুষ।

সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এই রুটে চলাচল করে  লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন চরম আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছে। ভাঙা সড়কের কারণে প্রায়ই যানবাহন উল্টে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে তাদের শিক্ষা জীবন। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না এবং দূরত্বের কারণে উপস্থিতি কমছে।

সড়কটির এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে 'ট্যাংড়াগিরি ইকো পার্ক' ও 'ডিসি পয়েন্ট' নামক দুটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পর্যটকরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

এদিকে সড়ক যোগাযোগের এমন বেহাল দশায় ধস নেমেছে স্থানীয় 'ফকির হাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের' ব্যবসায়। সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দূর-দূরান্তের পাইকাররা এখন আর এই কেন্দ্রে আসছেন না। ফলে স্থানীয় জেলেরা বাধ্য হয়ে কম মূল্যে স্থানীয় পাইকারদের কাছে মাছ বিক্রি করছেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে ঝুঁকিপূর্ণ পথেই মাছ সরবরাহ করছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ জেলে ও ব্যবসায়ীদের আয়ের ওপর। পাইকার সংকটের কারণে মাছের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না মেলায় সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনূচ সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘এই সড়কটি আমাদের অঞ্চলের অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও পর্যটন খাতের লাইফলাইন। এটি দ্রুত সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।’

 তালতলী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের দাবি—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে অতি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।