...|...|...

সারাদেশ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:২৫ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৩:১০
Shares
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’। ছবি: টাইমস টুডে

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের নিরলস কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’-এ জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে পটুয়াখালীর স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’। দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অবদানের মধ্যে এই অর্জন সংগঠনটির জন্য একটি বড় জাতীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘খ’ ক্যাটাগরিতে— বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (প্রতিষ্ঠান/সংগঠন পর্যায়) সংগঠনটি জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রতিনিধিদের হাতে প্রশংসাপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার, প্রাথমিক পরিচর্যা, নিরাপদে অবমুক্তকরণ এবং বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী। লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধারে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন সংগঠনটির প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা।

শুধু বন্যপ্রাণী উদ্ধার নয়, প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি। বন্যপ্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধারের মাধ্যমে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া, মানুষের মধ্যে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে তারা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তবে এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। সংগঠনের প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীর শ্রম, সময়, ত্যাগ, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার সম্মিলিত স্বীকৃতি এটি। এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারা আরও বলেন, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি প্রাণকে রক্ষা করার মধ্য দিয়ে আমরা শুধু একটি জীবনই বাঁচাই না, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখি। তাই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর জীবন রক্ষাকে আমরা সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।

এই জাতীয় স্বীকৃতির জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলী, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, উপকূলীয় বন বিভাগ, বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী, সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহযোগী সংগঠন এবং পটুয়াখালীর সচেতন নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন তাদের পথচলার শেষ নয়; বরং এটি নতুন দায়িত্ব ও নতুন অঙ্গীকারের সূচনা। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে তাদের উৎসাহিত করবে।

সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, বন বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।