...|...|...

সারাদেশ

ময়মনসিংহে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:২৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:২৭
Shares
ময়মনসিংহে ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

ফাইল ছবি

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রকাশিত ১২ জনের চূড়ান্ত ও রিজার্ভ তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত ফলাফলকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

জানা গেছে, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ১২ জনের মধ্যে অন্তত ছয়জন সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত। এরমধ্যে চারজন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং তাদের সন্তান। তাদের মধ্যে রয়েছেন গালাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও প্যানেল চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলী মেম্বারের ছেলে শাহীন আলম, বানিহালা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সাবেক লুলু চেয়ারম্যানের ছেলে মির্জা মাহবুব বেগ, বিসকা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম মনির এবং তারাকান্দা ইউনিয়নের সাবেক প্রভাবশালী ইউপি মেম্বার আনোয়ার হোসেন আকন্দের ছেলে তানভীর আকন্দ ঝিনুক। বাকি দুজনের মধ্যে বালিখা ইউনিয়নের আজিজুল ইসলাম এবং ঢাকুয়া ইউনিয়নের মঞ্জুরুল হোসেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। মঞ্জুরুল হোসেন বওলা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। বাকি ছয়জনের রাজনৈতিক পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ছাত্রলীগের স্থান পাওয়ার বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, ছাত্রলীগের যে দুজন নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের দুজনকে দ্রুত বাদ দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। স্বজনপ্রীতি ও দলীয় চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দেশনা ছিল আমাদের দলের মধ্য থেকে যারা মেধাবী তারাই নিয়োগ পাবেন।

তারাকান্দা-ফুলপুর এলাকার সংসদ সদস্য ও ১১ দলীয় জোটের নেতা মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও নিয়োগকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে গিয়ে যদি ছাত্রলীগ ঢুকে পড়ে, সেটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তারাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অসীম সরকারের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ধরেননি।

নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১২ জনের মধ্যে ছয়জন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী হওয়ায় মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগ অত্যন্ত স্বচ্ছ হয়েছে, তবে নিয়োগের সময় রাজনৈতিক পরিচয় দেখে লোক বাছাই করার সুযোগ ছিল না।

জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) তারাকান্দা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হামিদুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা স্পষ্টত পাঁচ হাজার পরীক্ষার্থীর সাথে তামাশা। আমরা রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানাই। অনতিবিলম্বে ফলাফল পুনর্বিবেচনা চাই।

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, স্বচ্ছতার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই।