নওগাঁর সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করা হলেও দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বদলির আদেশ পাওয়ার পরও বর্তমান ওসি মিজানুর রহমান দায়িত্ব ছাড়ছেন না। ফলে ওই থানায় নতুন করে বদলি হয়ে আসা ওসি শাহিন রেজা দায়িত্ব বুঝে নিতে পারছেন না।
গত ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুই থানার ওসিকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ অনুযায়ী, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার ওসি শাহিন রেজাকে সাপাহার থানায় এবং সাপাহার থানার বর্তমান ওসি মিজানুর রহমানকে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বদলির আদেশের পরও ওসি মিজানুর রহমান দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করছেন। নতুন ওসি শাহিন রেজাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাপাহার থানার নতুন ওসি হিসেবে শাহিন রেজাকে বদলি করা হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানান।
তবে থানায় দায়িত্ব নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েন শাহিন রেজা। তিনি সাপাহার থানায় উপস্থিত হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, ওসি মিজানুর রহমান নতুন ওসিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে থানার ওসির কক্ষে তালা দিয়ে বাইরে অবস্থান করছেন এবং সময়ক্ষেপণ করছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে ওসি শাহিন রেজা বলেন, আমার অর্ডার হয়েছে মঙ্গলবার। পুলিশ সুপার (এসপি) স্যার অর্ডার করে দিয়েছেন। আমি গতকাল রাতেই এসে থানায় হাজির হয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওসি মিজানুর রহমান চার্জ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তাকে বলেছি। তিনি বলেছেন, সময় হলে দেব, এত তাড়াহুড়ার কী আছে? দেশে তো যুদ্ধ লেগে যায়নি যে এখনই আপনাকে হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে। আমি ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলিনি।
শাহিন রেজা বলেন, এসপি স্যারকে বলেছি। ওসি সাহেবকে বলেছি, আমাকে চার্জ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা আছে, আপনি বুঝিয়ে দেন। অথবা কখন দেবেন, সেটাও বলেন। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। শুধু বলেছেন, পরে। কিন্তু পরে কখন, সেটা আর বলেননি।
তিনি আরও বলেন, আমি থানাতেই বসে আছি, অন্য একটি রুমে।
এদিকে সেবাগ্রহীতা ও সাংবাদিকরা ওসি মিজানুর রহমানের কাছে থাকা পুলিশের সরকারি নম্বরে কল করলেও তিনি ফোন ধরছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ওসি মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগের আমলে তৎকালীন সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা করতেন। ওই সময়ে তিনি একাধিক থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, পাবনা জেলার ফরিদপুর থানায় দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি তৎকালীন সরকারের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করেছিলেন। পরে তিনি সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করেন। ৫ আগস্টের পর ওসিদের প্রত্যাহার করা হলে তাকে সিআইডি থেকে সাপাহার থানায় বদলি করা হয়। এখন আবার বদলির আদেশ হওয়ার পরও কেন তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না, তা বোধগম্য নয়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মিজানুর রহমান বলেন, একটা বদলির অর্ডার হয়েছে।
তবে থানায় তালা দিয়ে বাইরে থাকা কিংবা নতুন ওসিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।


