...|...|...

বিশ্ব

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আগুন-অবরোধে অচল শত শত স্কুল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৫:০৪ | আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:২১
Shares
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আগুন-অবরোধে অচল শত শত স্কুল

শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করছেন উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশটির ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ বা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে।

সেপ্টেম্বরে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এ আন্দোলন দ্রুত ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ, সড়কে আগুন জ্বালানো এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

বার্তা সংস্থা এএফপির ৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রায় ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩৫টিতে বিক্ষোভ বা শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে জানিয়েছেন, আগের দিনের তুলনায় এ সংখ্যা ৩০ শতাংশ কমেছে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভ ঘিরে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ক্লাস, অতিরিক্ত গরমের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষকসংকট এবং প্রয়োজনীয় পাঠ্যবইয়ের অভাবে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

প্যারিসের তুরগো উচ্চবিদ্যালয়ের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সিমন এএফপিকে জানায়, পুরো এক বছর তাদের কোনো বিজ্ঞান শিক্ষক ছিলেন না।

পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টের কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। প্যারিসের লিওনার্দ দ্য ভিঞ্চি ও গাস্তোঁ-বাশেলার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথেও আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেলফোর্টে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধরের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্য কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারান। ঘটনাটিকে ‘অসহনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। এ অভিযোগের পর কয়েকটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার গেফ্রে জানিয়েছেন, আন্দোলনে প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জন শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪০ জন স্কুলপ্রধান রয়েছেন। এ ছাড়া শতাধিক উচ্চবিদ্যালয় গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের (এলএফআই) ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফরাসি সরকার। তবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ম্যানুয়েল বোমপার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বের’ আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী গেফ্রে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অতি সহিংস কিছু গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কারণে কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হলে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে প্রসিকিউটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দারমানিনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।