...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

ফোন চার্জে রেখে ব্যবহার করলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়?

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৩০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:১২
Shares
ফোন চার্জে রেখে ব্যবহার করলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়?

ছবি: এআই জেনারেটেড

‘চার্জে বসিয়ে ফোন ব্যবহার করা যাবে না’- এই কথাটা ছোটবেলা থেকেই আমরা কমবেশি সবাই শুনে এসেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক স্মার্টফোনের যুগে এই ধারণাটা অনেকাংশেই ভুল।

আজকের দিনে চার্জিং ক্যাবল সোফার পাশে বা টেবিলে রেখে স্ক্রল করা কিংবা ভিডিও দেখাটা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হলো- এতে সত্যিই কি ব্যাটারির আয়ু কমে যায়? উত্তরটি হলো- না।

প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট বলেছে, চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করলে চার্জ হওয়ার গতি কিছুটা কমে যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু এতে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি হয় না। এর পেছনের প্রযুক্তিতে কারিগরি রহস্য লুকিয়ে আছে দু্ইটি - ‘বাইপাস চার্জিং’ ও ‘হিট ডিসিপেশন’।

বাইপাস চার্জিং কীভাবে কাজ করে

যেসব ফোনে বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তি আছে, সেগুলোতে চার্জ দেওয়া অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারি রিচার্জ হওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থেমে যায়। তখন সরাসরি বিদ্যুৎ চলে যায় অ্যাপ চালানো বা হ্যান্ডসেট সচল রাখার কাজে।

এতে দুটো সুবিধা হয়-ব্যবহারে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, আবার ব্যাটারির মূল শত্রু বাড়তি তাপ উৎপাদনও কমে যায়। বিশেষ করে গেইম খেলার সময় ফোন যাতে অতিরিক্ত গরম না হয়ে ওঠে, সেক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বেশ কার্যকর।

তবে এর একটা ছোট্ট অসুবিধাও আছে। দীর্ঘক্ষণ গেইমিং বা ভিডিও এডিটিং শেষে চার্জার খুলে দেখা যেতে পারে ব্যাটারির চার্জ প্রায় আগের মতোই রয়ে গেছে। কারণ সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা না হয়ে সরাসরি ডিভাইস চালাতেই খরচ হয়ে গেছে।

এই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে, সনি এক্সপেরিয়া ১ টু ফোনের মাধ্যমে, যেখানে একে বলা হয়েছিল ‘হিট সাপ্রেসন পাওয়ার কন্ট্রোল’।

বর্তমানে স্যামসাং, গুগল, শাওমি ও জেডটিই-র মতো প্রথমসারির ব্র্যান্ডের অনেক আধুনিক ফোনে এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে আইফোনে এখনও সরাসরি এই প্রযুক্তি যুক্ত হয়নি।

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কী করণীয়

বাইপাস চার্জিং না থাকায় চার্জে রেখে আইফোন ব্যবহার করলে চার্জিংয়ের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে। যদি ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠছে বলে মনে হয়, তাহলে সাময়িকভাবে ব্যবহার বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে স্বস্তির খবর হলো, বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টফোনেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে উন্নত ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থাকে, যা বড় কোনো ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।

জরুরি প্রয়োজনে-যেমন মেসেজ পাঠানো, কল করা, ছবি তোলা বা পাওয়ার ব্যাংকে সংযুক্ত অবস্থায় ভিডিও ধারণ-নিশ্চিন্তে ফোন ব্যবহার করা যায়। এতে চার্জিং কিছুটা ধীর হতে পারে, কিন্তু ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।

সারারাত চার্জে রাখা নিয়ে ভুল ধারণা

আরেকটি প্রচলিত কিন্তু ভুল ধারণা হলো, সারারাত ফোন চার্জে দিয়ে রাখা উচিত নয়। বাস্তবে সারারাত প্লাগে সংযুক্ত থাকলে সামান্য বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে ঠিকই, কিন্তু ফোন ‘ওভারচার্জ’ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রায় সব আধুনিক স্মার্টফোনেই একশ শতাংশ চার্জ হয়ে গেলে চার্জিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি অনেক ফোনে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ নামে একটি ফিচারও থাকে, যা ব্যবহারকারীর ঘুমানো ও ওঠার সময়ের প্যাটার্ন বুঝে ধীরে ধীরে চার্জ সম্পন্ন করে।

ধরা যাক, কেউ রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমাল,তাহলে হয়তো রাতের মধ্যেই ৬০ শতাংশ চার্জ হয়ে যায়, এরপর অপটিমাইজড চার্জিং কাজ শুরু করে এবং বাকি চার্জ ধীরে ধীরে হয়ে ঠিক সকালে ঘুম ভাঙার সময়েই একশ শতাংশে পৌঁছায়। এই পদ্ধতি ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

চার্জ শূন্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই

আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-চার্জ একদম শূন্যে নেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস।

মনে রাখবেন

  • চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করলে সাধারণত ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতি হয় না
  • ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলে সাময়িকভাবে ব্যবহার বন্ধ রাখুন
  • সারারাত চার্জে রাখা নিরাপদ, ওভারচার্জিংয়ের ভয় নেই
  • চার্জ ২০-৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার অভ্যাস ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে ভালো
  • চার্জ পুরোপুরি শূন্য হতে দেওয়ার দরকার নেই

মূলকথা হলো, ফোন অতিরিক্ত গরম না হলে চার্জে রেখে ব্যবহারে দুশ্চিন্তার তেমন কারণ নেই। তবে দ্রুত চার্জ করার প্রয়োজন থাকলে সেই সময়টায় ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।