দখলকৃত ফিলিস্তিনে অবস্থিত মসজিদগুলোতে লাউডস্পিকার বা মাইকে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করতে নতুন একটি আইনের প্রস্তাব এনেছেন চরম ডানপন্থী ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গভির। সম্প্রতি এই বিতর্কিত আইন প্রস্তাবের সপক্ষে প্রচার চালাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটি যদি শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি সংসদে পাস এবং বাস্তবায়ন করা হয়, তবে দেশটির পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী, যেকোনো মসজিদের লাউডস্পিকার বা মাইক ব্যবস্থা সরাসরি জব্দ করার আইনি একচ্ছত্র অধিকার পাবে ইসরায়েলি পুলিশ। এর পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে আজান সম্প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর সর্বোচ্চ ৫০ হাজার শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতমার বেন গভির ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি এই দমনমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণের পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। বেন গভিরের দাবি, এই আইনটির মূল উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, বরং আবাসিক এলাকাগুলোতে সৃষ্ট তীব্র ‘শব্দদূষণ’ কমিয়ে আনা।
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এমন পদক্ষেপের পর ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, শব্দদূষণ কমানোর দাবিটি একটি উসিলা মাত্র। মূলত ফিলিস্তিনি মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করা, তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ইসলামি সংস্কৃতিকে মুছে ফেলা এবং উসকানি দিয়ে ওই অঞ্চলে নতুন করে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতেই ইসরায়েলি প্রশাসন এই বৈষম্যমূলক আইন কার্যকর করার পাঁয়তারা করছে।


