ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ক্রামাতোর্স্কে দুটি যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন। বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ভাদিম ফিলাশকিন অভিযোগ করেন, সর্বোচ্চসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যেই যাত্রীবাহী বাস দুটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি এই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। দোনেৎস্কের ক্রামাতোর্স্ক ও পার্শ্ববর্তী স্লোভিয়ানস্ক শহর মূলত এই দনবাস অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি রাশিয়ার দখলের তালিকায় থাকা কৌশলগত 'ফোর্ট্রেস বেল্ট'-এর অংশ।
এক প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, 'এই হামলার জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। রাশিয়া দনবাসের সব মানুষের জীবন ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'
স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রকাশিত ছবিতে পুড়ে যাওয়া বাস, ধ্বংসস্তূপ এবং সড়কে রক্তাক্ত মরদেহের ভিড় দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার বিষয়ে মস্কো এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে ইউক্রেনজুড়ে সম্প্রতি রাশিয়ার সামরিক হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে মোট যত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের মধ্যেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে রাজধানী কিয়েভের পূর্বাঞ্চলে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন শিশুসহ ২২ জন প্রাণ হারান।


