মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে পদ্মা নদীতে ধরা পড়া ২১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি পাঙাশ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে মাছটি নিলামে ওঠে।
একই বাজারে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে মহাবিপন্ন দুটি বাগাড় মাছও বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাগাড় দুটি বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার ২০০ টাকায়।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যার পর পদ্মার মোহনায় সহযোগীদের নিয়ে জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে সুরেশ হালদার। ভাটিতে ভেসে কিছুক্ষণ পর জালে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি টের পান তারা। বুঝতে পারেন, বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলে দেখেন, বড় এক পাঙাশ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতেই মাছটি দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে রেজাউল মণ্ডলের আড়তে আনা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী চাঁদু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনে নেন।
চাঁদু মোল্লা বলেন, রাত ১০টার দিকে তিনি নিলামে অংশ নেন। কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা দরে মাছটি কেনেন ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায়। ওই রাতেই ঢাকার আশুলিয়ার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ক্রেতার ঠিকানায় মাছটি পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।
৪২ হাজারে বিক্রি হয় বাগাড় দুটি
বৃহস্পতিবার সকালে অন্য মাছের সাথে রেজাউল মণ্ডলের আড়তে ওঠে দুটি বাগাড়ও। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় ১৫ কেজি ও ১৩ কেজি ওজনের মাছ দুটি কেনেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। পরে মাছ দুটি তিনি ফেরিঘাটের পন্টুনের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন।
শাহজাহান শেখ বলেন, ১৫ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে ২১ হাজার টাকায় এবং ১৩ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় কেনেন। সকালেই শ্রীলঙ্কাপ্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা জহির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে দরদাম করে মাছ দুটি বিক্রি করেন তিনি।
শাহজাহান শেখ ১৫ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ২৪ হাজার টাকায় এবং ১৩ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে ১৮ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। ক্রেতাদের দেওয়া ঠিকানায় সকালেই মাছ দুটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


