...|...|...

রংপুর

প্রশাসন পরিচয়ে রিকশাচালক অপহরণ, ৫ দিন পর অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৫৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৮
Shares
প্রশাসন পরিচয়ে রিকশাচালক অপহরণ, ৫ দিন পর অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে রিকশাচালক রাসেলকে (৩০) অপহরণের পাঁচ দিন পর রংপুর থেকে গুরুতর অসুস্থ ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রংপুর শহরের ধাপ এলাকার একটি ড্রেনের পাশ থেকে আত্মীয়স্বজন তাকে উদ্ধার করেন।

রাসেল সৈয়দপুর শহরের নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার রিকশাচালক মহুবার রহমানের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বসতঘর সংস্কার ও নতুন রিকশা কেনার জন্য গত ২৫ আগস্ট একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন রাসেল। এরপর গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সাথে নিয়ে ইট কিনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। বের হওয়ার ঠিক আগে একটি অজ্ঞাত ফোন পেয়ে তাড়াহুড়ো করে মোবাইল ফোনটি বাড়িতে রেখে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনার দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে সৈয়দপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর পরিবার। রাসেলের বাবা মহুবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া তো দূরের কথা, বরং রাসেল ইচ্ছা করে গা-ঢাকা দিয়েছে বা অন্য বিয়ে করেছে বলে কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যায়।

উদ্ধারের পর রাসেল জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বাস টার্মিনালসংলগ্ন আদানি মোড়ে পৌঁছালে ‘প্রশাসন’ পরিচয়ে মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। পরে জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে সৈয়দপুর-রংপুর সড়কের ইকরচালী (ওকরাবাড়ি) এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তার সাথে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক চেতনানাশক মিশ্রিত কেক খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে সেখানে ফেলে রাখা হয় বলে জানান রাসেল।

রাসেল আরও বলেন, অজ্ঞান হওয়ার পর আমাকে কোথায় নেওয়া হয়েছিল কিছুই মনে নেই। তবে অপহরণকারীরা আমার পূর্বপরিচিত এবং সৈয়দপুরের স্থানীয় বলেই সন্দেহ হচ্ছে। সামনে পেলে তাদের চিনতে পারবো।

দিনদুপুরে জনাকীর্ণ এলাকা থেকে একজন রিকশাচালককে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে অপহরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।