...|...|...

বিশ্ব

প্রতিরক্ষা-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, মুখ খুলল হোয়াইট হাউস

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৪
Shares
প্রতিরক্ষা-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, মুখ খুলল হোয়াইট হাউস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকার কারণে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তা   কে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে প্রশাসনের ভেতরেও।

এরই মধ্যে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন হেগসেথ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে, কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। এটা কাজে আসবে না। আমরা পিছু হটব না।

অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে পারেন মার্কো রুবিও—এমন খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব আলোচনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও জানান, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাই তার পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন তারা বলে যে তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সব সময় হেসে বলি, কোন চাকরি?

রুবিওর সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়েছে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও। উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তার দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই।

তবে রুবিওর তুলনায় হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেশি। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়েই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে।

যদিও প্রকাশ্যে হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। এবিসি নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে তার কাছে ফোন এসেছে। তবে হেগসেথকে দায়িত্বে বহাল রাখার ব্যাপারে নিজের পূর্ণ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।

এ সময় হেগসেথের নেতৃত্বে অর্জিত কয়েকটি সামরিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার এবং ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

এদিকে, শুধু হেগসেথ নন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার পদ নিয়েও আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প। গত আট মাস ধরে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই দুই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা থমাস ম্যাসি।