...|...|...

আইন ও আদালত

প্যাডেল রিকশা বন্ধসহ নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন চেয়ে আইনি নোটিশ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৫ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:০৬
Shares
প্যাডেল রিকশা বন্ধসহ নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন চেয়ে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধ করে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ কর বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ এসব গাড়ি সড়কের উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবহার করে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপের পাশাপাশি সরকারের জ্বালানি ভর্তুকিতেও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

নোটিশে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম বস্তুকণার কারণে বায়ুদূষণ বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্যাডেল রিকশা নিয়ে যে যুক্তি

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিনের যাতায়াতে গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক সংকট এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেক নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে প্যাডেল রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি, যানজট ও প্রতিকূল পরিবেশে যাত্রী বহন করে রিকশা চালানোর ফলে শ্রমজীবী মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কার কথাও নোটিশে বলা হয়েছে। এতে পেশি ও অস্থিসন্ধির সমস্যা, অকাল বার্ধক্য এবং অপুষ্টিসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু জীবিকা নির্বাহের তাগিদে মানুষকে অতিরিক্ত শারীরিক শ্রমে বাধ্য হওয়া থেকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্যাডেল রিকশা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদনের দাবি

নোটিশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থার একটি আধুনিক বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ ধরনের যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একেবারে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

এ জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশার গতি নিয়ন্ত্রণ, কার্যকর ব্রেকিং ব্যবস্থা, উন্নতমানের ব্যাটারি, যানবাহনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক চার্জিং ব্যবস্থার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নিরাপদ প্রযুক্তি ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে ব্যাটারিচালিত রিকশা সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি বহু মানুষের জীবিকার মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ধরনের যানবাহনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিকেও নোটিশে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, রিকশাগুলো শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া এবং চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন নানা কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রাইভেট কারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি

জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিও করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাব বিবেচনায় ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর উচ্চহারে পরিবেশ কর আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বেকারত্ব কমাতে রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার এবং মিটারভিত্তিক গাড়ি সেবার মতো বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

এতে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণে নাগরিক ও সরকারের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

১০ দিনের সময়, না হলে রিট

আইনি নোটিশে সরকারকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্যাডেল রিকশা বন্ধে উদ্যোগ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা তৈরি এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।