...|...|...

লাইফস্টাইল

পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১০
Shares
পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

ছবি: সংগৃহীত

কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু খাবার পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যেসব খাবারে অক্সালেটের পরিমাণ বেশি, সেগুলো অতিরিক্ত খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাদাম

বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। তবে কিছু বাদামে অক্সালেটও বেশি থাকে। তাই নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে বাদাম খাওয়ার অভ্যাস থাকলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

পালং শাক

পালং শাক ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে এতে অক্সালেটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। যাদের ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি পাথরের প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত পালং শাক খাওয়া ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিট

বিটে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। কিন্তু এতে অক্সালেটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত বিট খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন

ডার্ক চকলেট ও কোকো

কোকো ও ডার্ক চকলেটেও অক্সালেট থাকতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে পরিমিত ডার্ক চকলেট খাওয়া গেলেও অতিরিক্ত গ্রহণ কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

কিছু ডাল ও শস্য

কিছু ডাল, শস্য ও উদ্ভিজ্জ খাবারেও অক্সালেটের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এসব খাবার সবার জন্য বাদ দিতে হবে। ব্যক্তির পাথরের ধরন ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু খাবার নয়, পানিও গুরুত্বপূর্ণ

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং এতে পাথর তৈরির উপাদানগুলো জমাট বাঁধার সুযোগ পায়। তাই বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা বেশি ঘাম হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা জরুরি।

তবে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকলেই সব অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ এসব খাবারের অনেকগুলোই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে। বরং পাথরের ধরন, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যাদের অক্সালেটযুক্ত খাবারে সতর্কতা জরুরি

সবার জন্য অক্সালেটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। যেমন-

  • যাদের প্রস্রাবে অতিরিক্ত মাত্রায় অক্সালেট পাওয়া যায়;
  • যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে;
  • যাদের অন্ত্র বা পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে;
  • ক্রোনস ডিজিজের মতো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা।
  • যেসব খাবারে অক্সালেট বেশি
  • কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীরে অক্সালেট ও অন্যান্য বর্জ্য জমে না থাকার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে পাথর তৈরির উপাদানগুলো শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে।

সুষম খাবার খান: শুধু উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।

লবণ ও অতিরিক্ত চিনি কমান: অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়াতে পারে। এতে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলা ভালো।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি এড়িয়ে চলুন: শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন সি ভেঙে অক্সালেটে পরিণত হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন সি বা এর সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো।

কিছু শাকসবজি সেদ্ধ করে রান্না করুন: উচ্চ অক্সালেটযুক্ত কিছু শাকসবজি সেদ্ধ বা ভাপিয়ে সেই পানি ফেলে রান্না করলে অক্সালেটের পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

অক্সালেটযুক্ত খাবার স্বাভাবিকভাবে পুষ্টিকর হলেও কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা সতর্কতা প্রয়োজন। তাই নিজের ইচ্ছায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে, কিডনিতে পাথরের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের তালিকা ঠিক করা ভালো।

সূত্র: আনন্দবাজার