পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর গিরিখাদে পড়ে গিয়ে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে যাত্রীবাহী বাসটি বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশাওয়ারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
পথে বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দুর্গম পাহাড়ি ‘দানা সার’ এলাকা অতিক্রম করে খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় প্রবেশ করার পরপরই চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি বিপজ্জনক বাঁক অতিক্রম করার সময় বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় এটি সড়ক থেকে ছিটকে সরাসরি পাথুরে গভীর খাদে পড়ে যায়।
শেরানি জেলার ডেপুটি কমিশনার হযরত ওয়ালি কাকার জানান, বাসটি কোয়েটা থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে পথিমধ্যে অন্য একটি বাস বিকল হয়ে পড়ায় সেই বাসের যাত্রীরাও এই বাসটিতে আরোহণ করেন।
খাইবার পাখতুনখোয়া উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’- এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালকসহ মোট ৪৮ জন আরোহী ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং তীব্র গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি এত বেশি মারাত্মক রূপ নেয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শেরানি ও ডেরা ইসমাইল খান জেলা প্রশাসন, রেসকিউ ১১২২, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ৪০টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহত ৮ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে ঝোব জেলা সদর হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেছেন। আহতদের চিকিৎসার্থে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

