...|...|...

বিশ্ব

পরিবারসহ মার্কিন কূটনীতিকদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:১০
Shares
পরিবারসহ মার্কিন কূটনীতিকদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক ও তীব্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বিভিন্ন মার্কিন মিশন থেকে জরুরি নয় এমন কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি এই অঞ্চলের অন্যান্য বেশ কয়েকটি মার্কিন মিশন থেকেও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির দাম্মাম শহরের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হওয়া এবং তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার ঘটনার পরই এই কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদির বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে লাগাতার হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে কেবল ‘সৌদি আরবে থাকা মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের পরিবার এবং জরুরি নয় এমন কর্মীদের’ চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান যখন মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, তখন বেশ কিছু কূটনৈতিক কর্মী অঞ্চল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত কয়েক মাসে তাদের একটি অংশকে আবার অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলাসহ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চার মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলো থেকেও পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে সৌদি আরবের বাইরের অন্যান্য মিশনগুলোর সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে পিগট সরাসরি কিছু বলেননি।

সাম্প্রতিক এই প্রত্যাহার নির্দেশটি এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন এক ফ্রন্টের সৃষ্টি হয়েছে। এই বৃহত্তর সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়েছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই প্রস্থান আদেশের পরপরই সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর জানায়, যাতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে, সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ড্রোন সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করার পর এর টুকরো বা আঘাতে দুজন নিহত হন।

রিয়াদের বিমানবন্দরসহ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবে আরও সম্ভাব্য হুথি হামলা সম্পর্কে নাগরিকদের সতর্ক করতে গত বুধবার রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।