...|...|...

বিশ্ব

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বয়সসীমার পক্ষে নন হিলারি ক্লিনটন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৯
Shares
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বয়সসীমার পক্ষে নন হিলারি ক্লিনটন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ বা বয়সসীমা নির্ধারণের ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তার মতে, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা হলো ‘কৃত্রিম’। কোনো জনপ্রতিনিধি যদি জনপ্রিয় না হন, তবে ব্যালট বক্সের মাধ্যমেই ভোটাররা তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তুর্কি বার্তা সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পডকাস্ট উপস্থাপক কারা সুইশারের সাথে এক আলাপচারিতায় হিলারি ক্লিনটন এই মন্তব্য করেন। এর আগে পডকাস্টে বয়স বা কার্যকালের মেয়াদের ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছিলেন সুইশার।

তার প্রতিউত্তরে হিলারি বলেন, আমি মেয়াদের সীমার সাথে একমত নই। আমার মনে হয় এই টার্ম লিমিটগুলো কৃত্রিম। তিনি আরও যোগ করেন, আমি মনে করি ভোটাররাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন। আপনি বা আমি যাকে মনে করি যে তার আর নির্বাচন করা উচিত নয়, তবে তার বিরুদ্ধে ভোট দিন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের মেয়াদকাল কত দীর্ঘ হওয়া উচিত—এ নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরুর মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন ডেমোক্র্যাট দলের এই নেত্রী। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছর এবং সিনেটের সদস্যরা ছয় বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন; তবে উভয় কক্ষেই একজন আইনপ্রণেতা কতবার পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়তে পারবেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনি সীমারেখা নেই।

টার্ম লিমিটের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি

কংগ্রেসে টার্ম লিমিট বা মেয়াদসীমা চালুর সমর্থকরা যুক্তি দিয়ে থাকেন যে, এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের আগমন ঘটাবে, বর্তমান আসীনদের একচেটিয়া সুবিধা কমাবে এবং কোনো আইনপ্রণেতাকে দীর্ঘ দশক ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে বাধা দেবে।

অন্যদিকে, এর বিরোধীদের মতে, এ ধরনের বিধিনিষেধ চালু করা হলে ভোটাররা তাদের অভিজ্ঞ প্রতিনিধিদের টিকিয়ে রাখার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি এতে নির্বাচিত নন এমন কংগ্রেশনাল কর্মী, লবিস্ট এবং বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব আরও বেড়ে যেতে পারে।

কংগ্রেসে এই ধরনের মেয়াদসীমা বা টার্ম লিমিট চালু করতে হলে মার্কিন সংবিধানে একটি সংশোধনী আনতে হবে। আর এর জন্য কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং চার ভাগের তিন ভাগ রাজ্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অথবা দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্য আইনসভার অনুরোধে একটি সাংবিধানিক কনভেনশনের মাধ্যমেও এটি প্রস্তাব করা যেতে পারে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে ২২তম সংশোধনীর অধীনে আলাদা সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার মাধ্যমে সাধারণত একজন প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ দুটি মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগেও ২০১৬ সালের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বাধ্যতামূলক অবসরের বয়সসীমা এবং টার্ম লিমিট উভয় বিষয়েরই বিরোধিতা করেছিলেন। তার সবসময়ই মূল বক্তব্য ছিল, ভোটাররাই ব্যালট বক্সের মাধ্যমে প্রতিটি প্রার্থীকে স্বতন্ত্রভাবে মূল্যায়ন করবেন।