...|...|...

রাজনীতি

নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া দলগুলো জুলাইয়ের চেতনা স্বীকার করতে চায় না: মাহমুদুর রহমান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩৪
Shares
নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া দলগুলো জুলাইয়ের চেতনা স্বীকার করতে চায় না: মাহমুদুর রহমান

বক্তব্য দিচ্ছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষর করা রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত জুলাই সনদের চেতনাকেই স্বীকার করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, জেন-জি ফ্যাসিবাদের আইকনকে পরাজিত করতে সফল হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন নিয়ে তারা গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সাথে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিই ভুল ছিল। রাজনৈতিক পরিপক্বতা থাকলে জুলাই সনদের আগে নির্বাচন দেওয়া হতো না। নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যারা এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা কার্যত জুলাই সনদের চেতনাকেই স্বীকার করতে চায় না। তারা বিপ্লব শব্দটি উচ্চারণ করতেও অস্বস্তি বোধ করে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি। জেন-জি ফ্যাসিবাদের আইকনকে পরাজিত করতে সফল হয়েছে। কিন্তু তারা যে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

জুলাই বিপ্লবকে চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো এক দিনের ঘটনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে আরও একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের অগ্রাধিকারের জায়গায় সমস্যা ছিল। তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছিল, কিন্তু তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে অনুধাবন করা হয়নি। তারপরও ওই সরকার ছিল জুলাইয়ের বন্ধু সরকার। অনভিজ্ঞতার কারণে সরকার অনেক চাপের মুখে পড়েছিল। জুলাইয়ের অনেক তরুণ সংগঠন সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেছে। বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করেনি। সব মিলিয়ে সেটি ছিল একটি দুর্বল সরকার।

নির্বাচনের পর জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আমরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছি। কে দেশের ভেতর থেকে, কে দেশের বাইরে থেকে মাস্টারমাইন্ড ছিল, এখন চলছে সেই কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা। অথচ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিভাজনমূলক বক্তব্যের দায় সরকারকেই নিতে হবে।

জুলাইয়ের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, এবি পার্টিসহ সব বাংলাদেশপন্থি দলকে এক জায়গায় আসতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা যেতে পারে। এভাবে বিভাজন চলতে থাকলে দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ শুধু বাংলাদেশের আইকন নন, তিনি গোটা পৃথিবীর আইকন। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না। তাই জুলাইয়ের চেতনা ও অর্জনকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের নেতা সাগর উদ্দিন, পুসাবের সংগঠক তালহা বিন আমীন, জুলাই ঐক্যের নেতা রিয়াদুস ইসলাম জুবা ও জুলাই যোদ্ধা লাবিব প্রমুখ।

সভা সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন। এতে এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।