...|...|...

সারাদেশ

নীলফামারীতে বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৫
Shares
নীলফামারীতে বেঞ্চ সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

নীলফামারী বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: টাইমস টুডে

নীলফামারী বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি, মামলার কার্যক্রমে অনিয়ম এবং আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে তাকে বেঞ্চ সহকারীর পদ থেকে অপসারণসহ বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার কয়েকজন আইনজীবী।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজের কাছে লিখিত স্মারকচিঠি দিয়েছেন আইনজীবীরা। এতে জেলার বেশ কয়েকজন আইনজীবী স্বাক্ষর করেন।

স্মারকচিঠিতে অভিযোগ করা হয়, বেঞ্চ সহকারী মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের কাছ থেকে বিভিন্ন দাফতরিক কাজের জন্য অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করে আসছেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটানো এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগও করা হয়েছে।

আইনজীবীদের অভিযোগ, মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হতো। কোনো মামলায় বাদী বা আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘ অথবা স্বল্পমেয়াদি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও স্মারকচিঠিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ঘুষ ছাড়া আদালতের বিভিন্ন দাফতরিক কাজ সম্পাদনে অনীহার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্মারকচিঠিতে আরও বলা হয়, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে বেঞ্চ সহকারী আইনজীবীদের সাথে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বৃহস্পতিবার বিষয়গুলো বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজকে মৌখিকভাবে অবহিত করার সময়ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মু. মামুনুর রশিদ পাটোয়ারীর সাথে বেঞ্চ সহকারীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইনজীবীদের দাবি, আদালতের একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একইসাথে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ, আদালতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযোগ তদন্ত করে বেঞ্চ সহকারী মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদকে ওই পদ থেকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বেঞ্চ সহকারী মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।