...|...|...

বিশ্ব

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্কিন ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ বিলিয়ন ডলার সরালো ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৩
Shares
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মার্কিন ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ বিলিয়ন ডলার সরালো ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯ বিলিয়ন বা ৯০ কোটি ডলার সমপরিমাণ ইরানি তহবিল স্থানান্তরিত হয়েছে বলে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তে উঠে এসেছে। 

সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি নতুন প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকান ঋণদাতাদের সাথে সংবাদদাতা সম্পর্ক রয়েছে এমন বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই মূলত পরোক্ষভাবে ইরানি তহবিল মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারে। এই অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি (খাতায়-কলমে থাকা কোম্পানি) এবং কারেন্সি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ঘোরানো হয়ে থাকে।

এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এল যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে। তেহরানের সাথে ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দেশগুলোকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, অর্থ প্রবাহ সচল রাখতে ইরানের নানা কৌশল অর্থ প্রবাহ সচল রাখতে ইরান বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে চলেছে। এর তেল শিল্পই দেশটির আয়ের প্রধান উৎস। মার্কিন চাপের কারণে ইরানের তেল রফতানি সীমিত হলেও তেহরানের হাতে ট্যাংকারে সংরক্ষিত প্রচুর পরিমাণে ক্রুড অয়েল বা আধা-পরিশোধিত তেল রয়ে গেছে। এর একটি বড় অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় মজুদ রাখা হয়।

ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এবং দেশটির মোট রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি যায় চীনে। কেপলার-এর ডেটা উদ্ধৃত করে ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, চীন গত আগস্ট মাসে প্রতিদিন ৫ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।

সাগরে জাহাজে করে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে তেলের উৎস লুকিয়ে ফেলতে পারে ইরান। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ট্যাংকার থেকে তেল চীনে পৌঁছানোর আগেই অন্য জাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়, ফলে আমদানির খাতায় সেটিকে অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে বলে দেখানো সম্ভব হয়। ভোর্টেক্সার প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান গুদামে বা ফ্লোটিং স্টোরেজে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি ক্রুড অয়েল রয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউয়ান ও ক্রিপ্টোর ব্যবহার চীনের সাথে বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে এনেছে ইরান। ডলারের পরিবর্তে চীনা ইউয়ানেই চীনা ক্রেতাদের সাথে ইরানি তেল বাণিজ্যের লেনদেন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ইরান এই ইউয়ান ব্যবহার করে চীনা পণ্য ও সেবা কিনতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইরানের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোতে কাজ করা চীনা কোম্পানির বিনিময়েও তেল লেনদেন করা হয়।

পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকেও ঝুঁকেছে ইরান। গবেষকদের বরাত দিয়ে ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, বাণিজ্য এবং অস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এমনকি চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকেও তেল বিক্রির অর্থ পেতে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে।

শেল কোম্পানি ও এক্সচেঞ্জ হাউসের জাল তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি খরচ মেটানো, সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা করার জন্য ইরানের এখনো মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন হয়। এজন্য তেহরান হংকং ও দুবাইয়ের মতো বড় বড় আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি এবং এক্সচেঞ্জ হাউসের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানি তেলের আয় এবং অন্যান্য রফতানি আয়কে ডলার, ইউরো এবং আমিরাতি দিরহামে রূপান্তর করতে সাহায্য করে, পাশাপাশি অর্থের সাথে ইরানের সংযোগও গোপন রাখে।

ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানের অর্থ প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানিকে থামিয়ে দিলেও পুরো নেটওয়ার্কটিকে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।