ক্রেমলিনের নির্দেশে ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর দেশটিতে এই প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন শুরুর ঠিক প্রাক্কালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাশিয়ার ১১টি টাইম জোনের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কামচাটকা এবং চুকোটকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
তিন দিনব্যাপী এই ভোটাভুটিতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের জন্য প্রার্থীরা লড়ছেন। তবে কেবল যুদ্ধকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক দলগুলোকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরোধী একমাত্র দল ‘ইয়াবলোকো’কে গত আগস্টেই ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এছাড়া ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলেও মস্কো ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছে।
উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকেই রাশিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘সংযুক্ত রাশিয়া’ পার্টি যে সর্বাধিক আসন জিতবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। তবে তাদের জয়ের ব্যবধান এবং অন্য দলগুলোর পাওয়া আসনগুলোর প্রতি সবার বিশেষ নজর রয়েছে। বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকায় এবং কোনো যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মানুষের ক্ষোভ বা জনসমর্থনের গভীরতা কতখানি, তা যাচাইয়ের সুযোগ করে দিয়েছে এই নির্বাচন। ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। প্রায় প্রতিরাতেই ড্রোন হামলায় জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বিলিয়ন রুবল ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষই দাবি করেছে যে তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না, তবে দেশের অভ্যন্তরে অনেক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে, রাতেরবেলা রাজধানীর দিকে পাঠানো ৩৫০টি ড্রোনের বেশিরভাগই বাইরের প্রতিরক্ষা বলয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং শহরটির কাছাকাছি আসার পর ৬৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মস্কোকে লক্ষ্য করে চালানো এই তীব্র হামলার পাশাপাশি, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাতের আঁধারে ইয়ারোস্লাভল তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি আরও জানান, রোস্তোভের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলায় সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়েই তিনি বলেন, কৃষ্ণ সাগরেও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইউক্রেনের অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং কিয়েভের প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে রুশ বাহিনীও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে যে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণ সাগরের বন্দরনগরী ওদেসার কাছে ইউক্রেনীয় পোস্টাল কোম্পানি ‘নোভা পোশতা’-র একটি লজিস্টিক হাব এবং চর্নোমরস্কের নিকটবর্তী বন্দরের একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। সামরিক উদ্দেশ্যেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে রাশিয়ার একটি ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এর আগের দিন রাশিয়া জানিয়েছিল যে, তারা কিয়েভের কাছে তিনটি ড্রোন উৎপাদন কারখানা এবং ‘ডে নভো’ ডেটা সেন্টারে—যা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সার্ভার সরঞ্জামের কার্যক্রম নিশ্চিতকারী বৃহত্তম কেন্দ্র—হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।


