যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের মতো দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম। চলতি বছরে দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ মোট ৪৭টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন ইতিহাসে হামের এমন ব্যাপক সংক্রমণকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একদিনেই ১০৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সেখানকার গভর্নর ক্যাথি হোকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, পেনসিলভেনিয়া রাজ্যে গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আকারে দেখা দিয়েছে হাম। চলতি সপ্তাহে এই অঙ্গরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
পেনসিলভেনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করলেও ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের দাবি, এই সংখ্যাটি সঠিক নয় এবং তারা কেবল দুজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত আগস্ট মাসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র দাবি করেছিলেন যে পেনসিলভেনিয়ার হামে মৃত্যুর হিসাবটি ‘মনগড়া’। সে সময় তিনি সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে (সিডিসি) মৃত্যুর পরিসংখ্যান গণনার পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দফতর-এর একজন মুখপাত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ পত্রিকাকে জানিয়েছেন, টেক্সাস, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ক্যানসাস, নিউ মেক্সিকো এবং উইসকনসিনে এপিডেমিক অ্যাসিস্ট্যান্স ইনভেস্টিগেশন টিম মোতায়েনসহ দেশজুড়ে হাম মোকাবিলায় সিডিসি ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনে নিউ ইয়র্কেও মহামারি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
হামের লক্ষণ ও সংক্রমণ ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এতে আক্রান্ত হলে তীব্র জ্বর, শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করলে মস্তিষ্কে প্রদাহ, নিউমোনিয়া এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস খুব সহজেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর নিঃশ্বাসের সাথে বের হওয়া ক্ষুদ্র কণা বা ড্রপলেট বাতাসে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ভেসে থাকতে পারে কিংবা যেকোনো পৃষ্ঠতলে আটকে থেকে অন্যের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিষেধকের দুটি ডোজ গ্রহণ করলে আজীবন এই সংক্রামক রোগ থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব।


