...|...|...

খেলা

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি ঠেকাতে বিসিবির কঠোর নীতিমালা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫২
Shares
নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি ঠেকাতে বিসিবির কঠোর নীতিমালা

ছবি: সংগৃহীত

নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতিশোধমূলক আচরণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ ধরনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পাশাপাশি নতুন সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বোর্ড। অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি, যেখানে বিসিবির কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।

নতুন ‘প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড সেফগার্ডিং পলিসি’ অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে নেতৃত্ব দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির, ব্যারিস্টার অনিতা গাজী রহমান ও জারিন মাহমুদ হোসেন। একজন সাবেক ক্রিকেটারকেও এতে যুক্ত করা হবে। কমিটির অফিস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চন্দ্রা ব্যানার্জি।

কমিটিতে বিসিবির সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে না রাখার মাধ্যমে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে চায় বোর্ড। এর আগে বিসিবির নির্বাচনের আগে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন রাশনা ইমাম। সে সময় তিনি নারী উইংয়ের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন।

নতুন নীতিমালায় যৌন হয়রানির পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। দল নির্বাচন, চুক্তি, বিদেশ সফর কিংবা ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে যৌন সুবিধা চাওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সরাসরি হয়রানির পাশাপাশি অনলাইন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল, ডিপফেক ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধও এর আওতায় থাকবে।

অভিযোগ পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শুরু এবং ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জটিল পরিস্থিতিতে তদন্তের সময় সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি বা চুক্তি বাতিল, ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নারী ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ই-মেইল, ফোন কিংবা অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ বা হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগ অবশ্য আগেও উঠেছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিসিবি। সে সময় হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুসারে অভিযোগ কমিটি গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টিও সামনে আসে।

তখন বিসিবির পরিচালক ও উইমেন্স উইংয়ের প্রধান রুবাবা দৌলাকে তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি নারী ক্রিকেটে সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এবার নতুন নীতিমালা ও স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে চায় বিসিবি। নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নারী ক্রিকেটারদের জন্য এমন একটি কমিটি গঠনের দাবি দীর্ঘদিনের। এখন থেকে যেকোনো ক্রিকেটার এই কমিটির কাছে নির্ভয়ে নিজের অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বিসিবির প্রত্যাশা, স্বাধীন তদন্ত ও অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।