...|...|...

খেলা

ইয়ামাল-রাফিনিয়ার জাদুতে ভিলাকে হারিয়ে বার্সার দাপুটে জয়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৯ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:২৭
Shares
ইয়ামাল-রাফিনিয়ার জাদুতে ভিলাকে হারিয়ে বার্সার দাপুটে জয়

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুই হারে চাপে থাকা বার্সেলোনা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দুর্দান্ত এক জয়ে। অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জয়ের ধারায় ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। লামিনে ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ে অবদান রাখেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলাকে আতিথ্য দেয় বার্সেলোনা। এই হারে ভিলা কোচ উনাই এমেরির ৫৫তম জন্মদিনের আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। একই সাথে লিগ পর্বে তাদের শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ভেঙে যায়।

বার্সেলোনায় এমেরির পরিসংখ্যানও বেশ হতাশাজনক। এই শহরে ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই হেরেছেন স্প্যানিশ কোচ। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের সেই বিখ্যাত ‘রেমোন্তাদা’। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জেতার পরও ন্যু ক্যাম্পে পিএসজির ৬-১ গোলের হারে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাকে।

এ দিন অ্যাস্টন ভিলার জন্য ম্যাচটি বিশেষ হওয়ার কথা ছিল। গত চার বছরে এমেরির অধীনে ক্লাবটির অসাধারণ অগ্রগতির স্বীকৃতি দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ভিলার একনিষ্ঠ সমর্থক প্রিন্স উইলিয়াম। তবে শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় অতিথিদের।

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। সপ্তম মিনিটে গোল কিক নিতে গিয়ে বড় ভুল করেন জোয়াও গোমেস। তার বাড়ানো বল সরাসরি চলে যায় লামিনে ইয়ামালের কাছে। বক্সের ভেতর থেকে ১২ গজ দূরে দাঁড়িয়ে কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন তরুণ এই স্প্যানিশ তারকা।

গোল হজমের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অ্যাস্টন ভিলা। দুটি কর্নার থেকে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে তারা। প্রথম কর্নার থেকে ম্যাটি ক্যাশের দূরের পোস্টে নেওয়া শট ডিফ্লেক্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। পরের সুযোগে জোয়াও গোমেস নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করেন জোয়াও কানসেলো।

এরপর আক্রমণে আরও ধার বাড়ায় ভিলা। ১৯তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের বাড়ানো বল পেয়ে জোহান মানজাম্বি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর আবারও গোলের সুযোগ পান জ্যাকসন। এবার বার্সা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া সামনে এগিয়ে এসে পা দিয়ে বল আটকে দেন।

মানজাম্বি বক্সে ঢুকে আরও একবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন। তবে এবারও গার্সিয়ার দৃঢ়তায় গোল পায়নি ভিলা। একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল দিতে হয় তাদের দ্বিতীয়ার্ধে।

৫২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের পাস পেয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে শট নেন রাফিনিয়া। পাউ তোরেসের গোড়ালিতে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হয়। শেষ পর্যন্ত গোলপোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় সেটি।

এর ১২ মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। জোয়াও কানসেলো ভিলার অধিনায়ক জন ম্যাকগিনকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দিকে। ছয় গজ দূর থেকে সহজেই বল জালে পাঠান রাফিনিয়া। চলতি মৌসুমে ১৩ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯।

এরপর লিওন গোরেৎকার হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারায় বার্সেলোনা। অন্যদিকে, ভিলা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ফারমিন লোপেজ শট নিলেও তা আটকে দেন সুজুকি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কিশোর গোলদাতা ইয়ামাল শেষ দিকে আরও দুটি শট নেন। তবে দুটিই গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।