...|...|...

বিশ্ব

ধেয়ে আসছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, কোথায় কখন আঘাত হানতে পারে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫০
Shares
ধেয়ে আসছে নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’, কোথায় কখন আঘাত হানতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’। ঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে পরদিন সকালে স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন আন্দামান সাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে শনিবার দুপুরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির এই নাম প্রস্তাব করেছে ভারত। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ বেড়ে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। তবে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তুলনায় এর শক্তি কম হতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইএমডির পূর্বাভাস বলছে, ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। ৩ নভেম্বর এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলেও অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নভেম্বর উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। ৪ নভেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমডি।

এর আগে ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ওই ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার ছিল। নতুন সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি অর্ণবের তুলনায় দুর্বল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হলেও উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।