...|...|...

সারাদেশ

দোয়া মাহফিলে জুলাইযোদ্ধাকে মারতে তেড়ে গেলেন বিএনপি নেতা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:২২ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:০৮
Shares
দোয়া মাহফিলে জুলাইযোদ্ধাকে মারতে তেড়ে গেলেন বিএনপি নেতা

জুলাইযোদ্ধাকে মারতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ। ছবি: টাইমস টুডে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক জুলাইযোদ্ধাকে মারতে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে  স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করায় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জুলাইযোদ্ধাদের দিকে চড়াও হন। পরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে সংক্ষিপ্ত আকারে সভা শেষ করা হয়।

দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়ামে দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সভায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) এমপি আবু তালেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা, স্থানীয় সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে হুসাইন আহমেদ বলেন, এই সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে নানা রকম সাংবিধানিক অজুহাত সামনে আনছে। গণভোটকে সরকার অবৈধ বলে আখ্যা দিচ্ছে। তাহলে আমরা বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে এই সরকারও অবৈধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদের এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেন উপস্থিত বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান মিলন, আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নজরুল মোল্লার ছেলে জুয়েল রানা ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনারের ঘনিষ্ঠ সোহেল আহমেদ জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদসহ অন্যান্যদের দিকে মারতে তেড়ে যান। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেনসহ অন্যান্যরা।

এক পর্যায়ে স্থানীয় এমপি আবু তালেব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদের বক্তব্য থামিয়ে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করা হয় বলেও জানা গেছে।

জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বলেন, আমি যখন বক্তব্য দিচ্ছিলাম, বিএনপির কিছু লোকজন সেটির বিরোধিতা করে। ওই সময় সাংবাদিক পরিচয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররাও বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে আমার বক্তব্য থামিয়ে দিয়েছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম বলেন, ওখানে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। একজন বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকার বিরোধী বক্তব্য দেয়। এসময় মঞ্চের সামনে উপস্থিত বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। মারতে তেড়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার নিবন্ধিত জুলাইযোদ্ধা হুসাইন আহমেদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। এসময় বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে আমাদের সকলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।